×
সদ্য প্রাপ্ত:
আসিফ নজরুলের ‘একক সিদ্ধান্তে’ বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যায়নি বাংলাদেশ: তদন্ত কমিটি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ সিলেটে পৌঁছেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল সৌদির কিং খালিদ বিমান ঘাঁটিতে হুতিদের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা সন্ত্রাস দমনে ক্রসফায়ারের প্রয়োজন নেই, দেশের আইনই যথেষ্ট: আইনমন্ত্রী ২৪ ঘন্টায় হামের উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু, মোট মৃত্যু ১০৩০ চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশীদের ইজারার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা দক্ষ জনবল তৈরি হলে ৪ বছরে রেমিট্যান্স তিনগুণ হবে : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র-ইরান তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে, পারমাণবিক হামলার সম্ভাবনা : টাকার কার্লসন চিকিৎসা নাকি ডিজিটাল মার্কেটিং: ডা. জাহাঙ্গীর কবির ও তাঁর প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিএমডিসির তদন্ত
  • প্রকাশিত : ২০২৫-১১-২৩
  • ১২১ বার পঠিত

রাকিব উদ্দিন, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম রেলওয়ে হাসপাতালের পাশে বহুদিনের হাসপাতাল ক্যান্টিন ভেঙে গড়ে ওঠা ‘ভিআইপি’ রেস্টুরেন্ট এখন রোগী ও স্বজনদের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলতি বছর হাসপাতালটি সবার জন্য উন্মুক্ত করার পর রোগীর চাপ বাড়লেও সেখানে নেই কোনো ক্যান্টিন। ফলে রোগী–স্বজনদের গিয়ে দাঁড়াতে হচ্ছে পাশের ‘তাসফিয়া গার্ডেন’ নামে ‘ভিআইপি’ রেস্টুরেন্টে—যেখানে দাম বাহুল্য, সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।

এর পাশাপাশি রেস্টুরেন্টটিতে নিয়মিত গান–নাচসহ নানা পার্টির আয়োজন হয়। উচ্চ শব্দে এসব আয়োজন হাসপাতালের রোগীদের অস্বস্তিতে ফেলছে। অথচ সব দেখেও নীরব রয়েছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা খোরশেদ আলম চৌধুরী বলেন—
“জায়গাটি সিসিএম দপ্তর থেকে দেওয়া হয়েছে। আমাদের দায়িত্ব শুধু রাজস্ব আদায় করা। এর বাইরে আর কিছু জানি না।”

এ বিষয়ে এস.এ ফ্যামিলির পরিচালক শাহ আলমের মোবাইল ও হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কোনো সাড়া মেলেনি।

অন্যদিকে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. ইবনে সফি আব্দুল আহাদ জানান—
“হাসপাতাল উন্মুক্ত হওয়ায় রোগী বেড়েছে; ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। যেহেতু ক্যান্টিন নেই, নতুন করে ক্যান্টিন স্থাপন করতে হবে।”


রেলওয়ের সূত্র জানায়, ২০১৬ সালে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব কাজে লাগিয়ে ক্যান্টিনের জায়গা দখলে নেন ব্যবসায়ী শাহ আলম। পরের বছর ২০১৭ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি তার স্ত্রী ইয়াছমিন আলমের নামে ৫,২২৫ বর্গফুট জায়গা লিজ নেওয়া হয়। সেখানে ছিল না কোনো টেন্ডার, ছিল না প্রতিযোগিতা—সম্পূর্ণ বিনাপ্রতিযোগিতায় বছরে মাত্র ৩ লাখ ৮০ হাজার ৭৫০ টাকায় লিজ নবায়নের ব্যবস্থা করা হয়।

ক্যান্টিন ভেঙে শাহ আলম বরাদ্দকৃত সীমা অতিক্রম করে প্রায় ৭ হাজার বর্গফুট জায়গা দখল করে নির্মাণ করেন বর্তমান ‘তাসফিয়া গার্ডেন’। অথচ রেলওয়ের নিয়ম অনুযায়ী মূল নকশা ভেঙে নতুন স্থাপনা নির্মাণের অনুমতি লিজগ্রহীতার নেই। তৎকালীন ডিআরএম মফিজুর রহমান এক পর্যায়ে দোকানটি উচ্ছেদ করলেও পরে উপরের মহল ‘ম্যানেজ’ করে আবার চালু হয় ব্যবসা।

২০১৭ সালের লিজমূল্য বাড়ানো হয়নি সাত বছর ধরে। ২০২৪ সালে নবায়নের সময় মাত্র ৭৬ হাজার ১৫১ টাকা বাড়িয়ে ভাড়া দাঁড়ায় ৪৫ লাখ ৬ হাজার ৯০১ টাকা। তবে চলতি অর্থবছরের নবায়ন ছাড়াই এখনো চলছে তাদের ব্যবসা।

সরেজমিন দেখা যায়, সিআরবি এলাকার হাসপাতালের সীমানা দেয়ালের সঙ্গে গড়ে তোলা হয়েছে ‘তাসফিয়া গার্ডেন রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড কনভেনশন হল’। উচ্চবিত্তদের আড্ডাস্থল এই রেস্টুরেন্টে রোগী–স্বজনদের প্রবেশ করা কার্যত অসম্ভব।

হাসপাতালে আসা এনায়েতবাজারের গৃহবধূ আসমা আক্তার বলেন—
“সকালে জ্বরে বাচ্চাকে নিয়ে এসেছি। খাবার কিছু কিনে দিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু হাসপাতালের ভেতরে ক্যান্টিন না থাকায় পারিনি।”


সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, রেলওয়ের ঐতিহাসিক স্থাপনার মূল নকশা পরিবর্তন, অতিরিক্ত জায়গা দখল, প্রতিযোগিতা ছাড়া লিজ প্রদান—সবই হয়েছে প্রভাবশালী শাহ আলমের সিন্ডিকেটের কারণে। প্রতিযোগিতামূলক টেন্ডার হলে রেলের রাজস্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার সুযোগ থাকলেও তা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat