আসন্ন দুর্গাপূজা উৎসব উপলক্ষে বাংলাদেশ থেকে ভারতে নিয়মিত ইলিশ মাছ রপ্তানির সুযোগ দিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছে ভারতের মাছ আমদানিকারকদের সংগঠন ‘ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন’। একই সঙ্গে বাংলাদেশের অন্তত ১৮টি স্থানীয় রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান ভারতে ইলিশ পাঠানোর অনুমতি চেয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে।
আজ শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের বাজারে ইলিশের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্তের লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কাছে আনুষ্ঠানিক মতামত চাওয়া হয়েছে।
কলকাতাকেন্দ্রিক ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পৃথক চিঠি পাঠিয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও স্থায়ী বাণিজ্য: ২০১২ সালে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ রপ্তানিতে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর থেকে ২০১৯ সাল থেকে কেবল দুর্গাপূজা উপলক্ষে সীমিত মেয়াদে বিশেষ অনুমতিতে ইলিশ যাচ্ছে। ভারতীয় ব্যবসায়ীরা এই ২০-২৫ দিনের স্বল্পকালীন ‘বিশেষ অনুমতি’র পরিবর্তে স্থায়ীভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া বা অন্তত ২ মাস মেয়াদী দীর্ঘ উইন্ডো দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রক্রিয়াগত জটিলতা: আমদানিকারক ও স্থানীয় রপ্তানিকারকদের মতে, স্বল্প সময়ের নোটিশে এলসি (LC) খোলা, ইলিশ সংগ্রহ ও প্যাকেজিং সম্পন্ন করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে বিগত বছরগুলোতে সরকার কর্তৃক অনুমোদিত কোটার একটি বড় অংশই শেষ পর্যন্ত ভারতের বাজারে পাঠানো সম্ভব হয়নি।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপাত্ত অনুযায়ী, বিগত বছরগুলোতে বিশেষ অনুমতির বিপরীতে বাস্তব রপ্তানির পরিমাণ ছিল তুলনামূলক কম:
| বছর | অনুমোদিত পরিমাণ (মেট্রিক টন) | প্রকৃত রপ্তানি (মেট্রিক টন) |
| ২০১৯ | ৫০০ | ৫০০ |
| ২০২০ | ১,৮৫০ | আংশিক |
| ২০২১ | ৪,৬০০ | ১,২০০ |
| ২০২২ | ২,৯০০ | ১,৩০০ |
| ২০২৩ | ৩,৯৫- | ১,৩০০ |
| ২০২৪ | ২,৪২০ | ৫৭৭ |
| ২০২৫ | ১,২০০ | ১৫০ |
বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান জানিয়েছেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ইলিশের অভ্যন্তরীণ মজুদ ও স্থানীয় মূল্যমানের ওপর পর্যালোচনামূলক প্রতিবেদন পাওয়ার পরই চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হবে। অভ্যন্তরীণ বাজারে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-আয়ের ভোক্তাদের জন্য ইলিশের দাম সহনশীল রাখার বিষয়টি মাথায় রেখে কোটা ও শর্ত নির্ধারণের সম্ভাবনা রয়েছে।