যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের অন্যতম ব্যস্ত ও বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকা জ্যাকসন হাইটসে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। দীর্ঘ ২০ বছর পর বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঐতিহাসিক যুক্তরাষ্ট্র সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রবাসী বিএনপি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে এই মুখোমুখি অবস্থানের সৃষ্টি হয়। স্বাগত ব্যানার ও পোস্টার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের ইত্যাদি বাজারের সামনে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি স্লোগানের ঘটনা ঘটে।
প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফরকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতে গত এক মাস ধরে নানা প্রস্তুতি সভা ও প্রচার চালিয়ে আসছিলেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। এর অংশ হিসেবে জ্যাকসন হাইটসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে ব্যানার ও পোস্টার সাঁটানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার বিকেলে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মী ওই ব্যানার ও পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ মিছিল বের করেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। নিউইয়র্ক মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা এবং যুক্তরাষ্ট্র যুবদলের সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক তোফায়েল চৌধুরী লিটনসহ অন্যান্য নেতাদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ শুরু হয়। অন্যদিকে, ড. সিদ্দিকুর রহমান ও আবদুস সামাদের নেতৃত্বে মাঠে নামে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগও। দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী পাল্টাপাল্টি স্লোগান ও মুখোমুখি অবস্থানে প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও পথচারীদের মাঝে সাময়িক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ (NYPD)-এর বিপুলসংখ্যক সদস্য দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে, দীর্ঘ দুই দশক পর প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের এই যুক্তরাষ্ট্র সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (UNGA) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে স্থানীয় সময় সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে সফরসঙ্গী ও সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন তিনি। ২১ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত এই সফরে যুক্তরাষ্ট্রের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাতে জড়ো হন হাজার হাজার প্রবাসী নেতাকর্মী। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ নেতারা এই সফরকে প্রত্যাখ্যান করে জাতিসংঘের বাইরে বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন।
নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে প্রবাসী নেতাকর্মীদের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি প্রবাসের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। স্থানীয় আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কঠোর নজরদারির মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি আপাতত শান্ত থাকলেও, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীদের রাজনৈতিক অঙ্গন আগামী কয়েক দিন বেশ উত্তপ্ত থাকবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।