জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ঐতিহাসিক অংশগ্রহণ, বিশ্বনেতাদের সঙ্গে ফলপ্রসূ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং যুগান্তকারী বৈশ্বিক প্রস্তাবনা পেশ শেষে সফলভাবে যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষ করে আজ রাতেই দেশের পথে ঢাকায় এসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে এবারের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও কূটনৈতিকভাবে অত্যন্ত সফল একটি অধ্যায হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। চলুন এক নজরে দেখে নেওয়া যাক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই ব্যস্ততম ও সফল যুক্তরাষ্ট্র সফরের উল্লেখযোগ্য দিকগুলো:
ঐতিহাসিক বিশ্বমঞ্চ: জাতিসংঘের দীর্ঘ ইতিহাসে একই পরিবার থেকে তৃতীয় সদস্য হিসেবে সাধারণ পরিষদের মূল অধিবেশনে ভাষণ দিয়ে এক বিরল ও গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস গড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
‘থ্রি-আর’ কৌশল ও বৈশ্বিক শান্তি: বিশ্বমঞ্চে তিনি দেশের রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতে সরকারের ‘থ্রি-আর’ (Repair, Reform, Rebuild) কৌশলের রূপরেখা তুলে ধরেন। পাশাপাশি, অস্ত্র প্রতিযোগিতা বন্ধ করে পারস্পরিক সংলাপ ও যুক্তিতর্ককে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার প্রধান হাতিয়ার করার জোরালো আহ্বান জানান।
ফিলিস্তিন ও রোহিঙ্গা সংকট: মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের মাধ্যমে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে বাংলাদেশের অটল অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে বিশ্বসম্প্রদায়কে কার্যকর রোডম্যাপ তৈরির তাগিদ দেন।
ডিজিটাল উদ্ভাবন ও ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ প্রস্তাব: প্রবাসীদের ও বৈশ্বিক নাগরিকদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে একটি আন্তর্জাতিক ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালুর যুগান্তকারী প্রস্তাব বিশ্ববাসীর সামনে উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী।
বিনিয়োগবান্ধব বাংলাদেশ: যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষ বিনিয়োগকারী এবং ব্যবসায়িক ফোরামের সঙ্গে বৈঠকে তিনি ঘোষণা করেন যে, বাংলাদেশ এখন বিদেশি বিনিয়োগের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত। ব্যবসা সহজীকরণ ও সুরক্ষার আশ্বাসে আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক মহলে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া মিলছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফল সফর শেষে দেশে ফেরার পর তাকে সংবর্ধনা ও সরকারের পক্ষ থেকে পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং করা হতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।