স্পোর্টস ডেস্ক
আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে স্পিন কোচ মুশতাক আহমেদ আশা প্রকাশ করে বলেছিলেন, নতুন বল হাতে পেলেই ম্যাচে ফিরবে বাংলাদেশ। তবে সেই ফেরা যে এত চমকপ্রদ ও অবিশ্বাস্য হবে, তা হয়তো কারোরই কল্পনায় ছিল না। ৭ বলের ব্যবধানে আফগানিস্তানের ৪ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে চোখ ধাঁধানো প্রত্যাবর্তন করেছে বাংলাদেশ। আর এই অবিস্মরণীয় মহাকাব্যের নায়ক ডানহাতি পেসার হাসান মাহমুদ—যিনি প্রথম বাংলাদেশি পেসার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে হ্যাটট্রিক করার গৌরব অর্জন করেছেন।
হাসান মাহমুদের এক আগুনের ওভারেই ধ্বংস হয়ে যায় আফগানিস্তানের লোয়ার মিডল অর্ডার। ইনিংসের গতিপথ বদলে দেওয়া ওভারটির শুরুটা হয়েছিল ইসমাত আলমকে দিয়ে। হাসানের দুর্দান্ত এক ইনসুইঙ্গারে পরাস্ত হয়ে বোল্ড হন এই আফগান ব্যাটার।
পরের বলেই কাইস আহমেদের উইকেট। এবার হাসানের অস্ত্র ছিল নিখুঁত এক আউটসুইঙ্গার। ব্যাটের বাইরের কানায় লেগে বল পেছনে গেলে উইকেটের পেছনে অসাধারণ এক ক্যাচ লুপে নেন লিটন দাস।
হ্যাটট্রিক বলের মুখোমুখি হন নতুন ব্যাটার জিয়া আকবর। ভেতরে ঢোকা তীব্র গতিময় বল সোজা গিয়ে আঘাত হানে তার প্যাডে। বাংলাদেশের এলবিডব্লিউর জোরালো আবেদনে মাঠের আম্পায়ার সাড়া না দিলে সাথে সাথে রিভিউ নেন অধিনায়ক। রিপ্লেতে দেখা যায় পিচিং, ইমপ্যাক্ট এবং উইকেট ট্র্যাকিং—সবকটিতেই 'রেড লাইট'। আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত বদলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নিশ্চিত হয়ে যায় হাসান মাহমুদের ঐতিহাসিক টেস্ট হ্যাটট্রিক।
বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে এর আগে হ্যাটট্রিকের দেখা মিলেছিল মাত্র দুটি। ২০০৩ সালে পেশোয়ারে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম হ্যাটট্রিক করেছিলেন অলক কাপালি এবং ২০১৩ সালে চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় হ্যাটট্রিকটি করেছিলেন সোহাগ গাজী। তবে দেশের ২২ বছরের টেস্ট ইতিহাসে কোনো ফাস্ট বোলারের এই কীর্তি ছিল অধরা। আজ সেই অধরা পর্বতচূড়া জয় করে নিজেকে ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে খোদাই করলেন হাসান মাহমুদ।