×
সদ্য প্রাপ্ত:
পুলিশ সদস্যদের রাতে একা চলাচল না করার নির্দেশ নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক শুরু আজ মাদারীপুরে ৮০০ কোটি টাকার সেতু, নির্মাণস্থান পরিদর্শনে এমপি জাহান্দার আলী একনেকে ১৬ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন ফুলগাজীতে প্রবাসীর জমিতে আগুন, শতাধিক ফলের গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ এক গোল, দুই অ্যাসিস্টে মেসির রাজকীয় বিদায় ভিজিএফ কার্ড এর মাধ্যমে ২০ কেজি চাল দেওয়ার সিদ্ধান্ত ডিসেম্বরের মধ্যে ঢাকায় এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ চালু: মাহদী আমিন দেড় ঘণ্টার ব্যবধানে তিন ভূমিকম্প, কেঁপে উঠল দেশের বিভিন্ন অঞ্চল শাহজালাল বিমানবন্দরে দুই বিমানকর্মীর জুতায় মিলল ৯ কেজি স্বর্ণ
  • প্রকাশিত : ২০২৬-১০-১২
  • ২২ বার পঠিত
নিজস্ব প্রতিবেদক :
ময়মনসিংহের ত্রিশালে এক নারী সাংবাদিককে মারধর, নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া এবং হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তিন নারীর বিরুদ্ধে।

 এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক লুৎফা সরকার নিশু বাদী হয়ে ত্রিশাল থানায় মামলা করেছেন বলে জানা গেছে। মামলার নম্বর ১৮৬০। 
ভুক্তভোগী সাংবাদিকের অভিযোগ, গত ১০ আগস্ট ২০২৬ তারিখ দুপুর ২টা ১০ মিনিটের দিকে  ০১৮৬১৯৯৪২৮৬ নাম্বার থেকে তার ০১৬০৯৮৩০০৪৫ নাম্বারে ফোন আসে। ফোনকারী নিজেকে মমতা বেগম পপি(৩৪), স্বামী আনিছুর রহমান, তাওপাকালিয়া, থানা মুক্তাগাছা, ময়মনসিংহের বাসিন্দা হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি জানান, সিলেট থেকে এসেছেন, তার কাছে কোনো টাকা-পয়সা নেই এবং দুই দিন ধরে কিছু না খেয়ে থাকায় খুব ক্ষুধার্ত ও অসুস্থ। তিনি ত্রিশাল থানার সামনে রয়েছেন বলেও জানান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, খবর পেয়ে সাংবাদিক জাকিয়া কে সঙ্গে নিয়ে পপির অনুরোধে তাকে ত্রিশালের মক্কা রেস্টুরেন্টে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে যাওয়ার পর পরিস্থিতি হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মামলার অভিযোগ ও নিশুর বক্তব্য অনুযায়ী, এ সময় সেখানে মারফুয়া আক্তার মোনালিসা (৩৩), পিতা আব্দুল হাই, মাতা আছিয়া খাতুন, উজানপাড়া ২ নম্বর ওয়ার্ড, ত্রিশাল পৌরসভা এবং তাসলিমা রত্না (৪০), স্বামী সারোয়ার কবির ফাহাদ, পিতা নুরুল আমিন, একই এলাকার বাসিন্দাসহ দুজন উপস্থিত হন। তারা তিনজন মিলে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন এবং হত্যার হুমকি দেন।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
 তিনি আরও অভিযোগ করেন, একপর্যায়ে তার ব্যাগ নিয়ে নেওয়া হয়। ব্যাগে থাকা ৫৫ হাজার টাকা মোনালিসা নিয়ে যান বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া মমতা পপি ব্যাগ থেকে একটি ছোট ছুরি বের করে ছুরির পেছনের অংশ দিয়ে তাকে কয়েকবার আঘাত করেন বলে দাবি করেন নিশু। এ সময় মাথা সরিয়ে নিলে আঘাতটি তার মুখ ও দাঁতে লাগে এবং একটি দাঁত ভেঙে যায় বলে তিনি জানান। নিশুর দাবি, রেস্টুরেন্টে তাকে মারধর করা হলেও রেস্টুরেন্টের মালিক বা কর্মচারীদের কেউ তাকে সহায়তা করেননি। পরে মোনালিসা তাদের ত্রিশাল প্রেসক্লাবে নিয়ে যাওয়ার কথা বললেও নিশু থানায় যাওয়ার কথা বলেন। এরপর তারা ত্রিশাল থানায় যান। থানায় গিয়ে নিরাপত্তা ও সহায়তা চাইলেও পুলিশ সদস্যদের কাছ থেকে যথাযথ সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ করেন নিশু। তবে নিশু আরও বলেন, ঘটনার সময় থানায় ওসি মনসুর আহমেদ ছিলেন না। তার দাবি, কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাদের থানার বাইরে নিয়ে যেতে বলেন। পরে তিনি ডিউটি অফিসারের কক্ষে বসলে মোনালিসা সেখান থেকে টেনে জামার কাপড় ছিঁড়ে সেখান থেকে বের করেন। ডিউটি অফিসারের কক্ষ থেকে বাইরে মারধর করেন ও পিছন থেকে ধাক্কা দেন বলে অভিযোগ করেন নিশু।
রত্না বারবার বলছিলেন ওর জামা ছিঁড়ে ফেলো তাহলে লাইভে ভিউ হবে আজ ওকে ভাইরাল করব। একপর্যায়ে মোনালিসা তার গলায় থাকা প্রায় ৮ আনা ওজনের সোনার চেইন নিয়ে যান বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তিনি আরও বলেন, থানার ভেতরেও তাকে থানার পেছনে নিয়ে যাওয়ার জন্য টানাটানি করা হয়। মোনালিসা রত্না এবং পপি বারবার তাকে থানার পেছনে নিয়ে যাওয়ার জন্য ধাক্কাধাক্কি করে। মোনালিসা বলছিলেন আজ তোকে জন্মের শিক্ষা দিয়ে দিব এবং সেখানে মারধরের হুমকি দিচ্ছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। একপর্যায়ে ডিউটি অফিসার আলামিন এসে তাদের থানা থেকে বের করে দেন বলে জানান তিনি।

নিশুর ভাষ্য, এরপরও অভিযুক্তরা থানার বাইরে আরিফের চায়ের দোকানের কাছে অবস্থান করছিলেন। দৈনিক ভোরের চেতনা পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার সাংবাদিক জাকিয়া বেগম তখন নিশুকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান চিকিৎসার জন্য। নিশু সেখানে ভর্তি হন। অভিযোগ রয়েছে, পরদিন হাসপাতালেও তাসলিমা রত্না ও মমতা পপি সেখানে যায় এবং নিশু যখন নিচে এক্সরে করতে যান সেখানে রত্না এবং পপি তাকে আবার মারধর ও হুমকি দেন। এ সময় তিনি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে সহায়তা চান বলে জানান। পরে হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তাদের হাসপাতালের কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না করার জন্য সতর্ক করেন বলে তিনি দাবি করেন। নিশুর অভিযোগ, হাসপাতালেও মোনালিসা ও রত্না তাকে উদ্দেশ্য করে হুমকি দেন এবং হাসপাতাল থেকে বের হলে তাকে দেখে নেওয়ার কথা বলেন। এতে তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত বলে জানান।

ভুক্তভোগী সাংবাদিকের দাবি, ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে মক্কা রেস্টুরেন্ট ও ত্রিশাল থানার সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে এবং রত্না কিছু মারধরের ভিডিও করে সেগুলো সোশ্যাল মিডিয়াতে ছেড়ে দেয়, প্রমাণ হিসেবে সেসব ভিডিও ডাউনলোড করে রাখা আছে। 
হাসপাতাল থেকে ফিরে পরদিন মমতা পপি, তাসলিমা রত্না ও মারফুয়া আক্তার মোনালিসার বিরুদ্ধে মামলা করেন নিশু। তার অভিযোগ, মামলা হওয়ার পরও অভিযুক্তরা থানায় আসা-যাওয়া করলেও তাদের বিরুদ্ধে এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এদিকে, অভিযুক্তদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়েও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক। তার দাবি, অভিযুক্ত তিনজন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং তাসলিমা রত্না ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদিকার দায়িত্বে ছিলেন। 
ভুক্তভোগী সাংবাদিক নিশু এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ এবং ফেসবুকে লাইভ করা ভিডিও যাচাই ও সংরক্ষণসহ সব প্রমাণ মিলিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...
❮

❯
Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat