মোঃ অলি উদ্দিন মিলন, বিশেষ প্রতিনিধি:
রাজধানীর জুরাইন-পোস্তগোলা এলাকায় যানজট নিরসন ও পথচারীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের যৌথ উদ্যোগে এক বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) বেলা ১০টা থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে জুরাইন রেলগেট, পোস্তগোলা ব্রিজের নিচের দু’পাশ এবং জুরাইন বালুর মাঠ সংলগ্ন রেললাইনের ওপর গড়ে ওঠা বিপুল সংখ্যক অবৈধ হকার উচ্ছেদ করা হয়।
তবে স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী এবং পরিবহন সংশ্লিষ্টদের দাবি শুধুমাত্র হকার উচ্ছেদ করে জুরাইনের স্থায়ী যানজট নিরসন সম্ভব নয়। এলাকার যানজটের মূল কারণ হিসেবে তারা চিহ্নিত করেছেন রাস্তার ওপর যত্রতত্র গড়ে ওঠা অবৈধ সিএনজি অটোরিকশা ও লেগুনার স্ট্যান্ড।
জুরাইন রেলগেট ও পোস্তগোলা ব্রিজ এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, উচ্ছেদ অভিযানের পর হকার সরে গেলেও রাস্তার সিংহভাগ দখল করে রেখেছে সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত রিকশা। এদের নিজস্ব কোনো নির্ধারিত পার্কিং স্পেস বা টার্মিনাল না থাকায় তারা প্রতিনিয়ত মূল সড়কের ওপর গাড়ি পার্কিং করে যাত্রী ওঠানামা করায়। ফলে জুরাইন রেলগেট অতিক্রম করতে প্রতিটি যানবাহনকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকতে হয়।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা জানান, উচ্ছেদ অভিযানে সাময়িক স্বস্তি মিললেও সিএনজি ও অটোরিকশা সড়ক থেকে না সরালে কিছুদিন পর আবার পরিস্থিতি পূর্বের রূপ ধারণ করবে।
জুরাইন এলাকা কেন্দ্রিক সিএনজি ও অটোরিকশা খাত থেকে প্রতিদিন মোটা অঙ্কের চাঁদাবাজি হয়। তবে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি এড়াতে চাঁদাবাজির কৌশলে এসেছে বড় পরিবর্তন।
আগে রাস্তায় প্রতিটি গাড়ি থামিয়ে জিপি (জিপি টিকিট) বিক্রির মাধ্যমে টোকেন দিয়ে সরাসরি চাঁদা তোলা হতো।
বর্তমানে চাঁদাবাজি হচ্ছে সম্পূর্ণ ‘গ্যারেজ কেন্দ্রিক’। এলাকাটির বিভিন্ন অটোরিকশা ও সিএনজি গ্যারেজ থেকে মাসোহারা ও নির্দিষ্ট হারে এককালীন বড় অঙ্কের টাকা তুলে পুরো সিন্ডিকেট পরিচালনা করা হচ্ছে। ফলে রাস্তায় সরাসরি চাঁদাবাজি দৃশ্যমান না হলেও এর প্রভাব পড়ছে পুরো পরিবহন ব্যবস্থাপনায়।
এলাকাবাসীর মতে, জুরাইন থেকে স্থায়ীভাবে যানজট নিরসন করতে হলে ডিএমপির ট্রাফিক ওয়ারী বিভাগকে আরও কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে। হকার উচ্ছেদের পাশাপাশি রাস্তার ওপর অবৈধ সিএনজি ও অটোরিকশা পার্কিং বন্ধ করাতে সাধারণ জনগণের দাবি।
ট্রাফিক পুলিশের ওয়ারী বিভাগ যদি নিয়মিত অভিযান ও নজরদারির মাধ্যমে রাস্তায় অবৈধ পার্কিং বন্ধ করতে পারে, তবেই জুরাইন-পোস্তগোলা অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের প্রতিদিনের যানজটের ভোগান্তি থেকে স্থায়ী মুক্তি মিলবে।
এ জাতীয় আরো খবর..