মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল, স্টাফ রিপোর্টারঃ
নওগাঁর আত্রাই উপজেলার আহসানগঞ্জ সাহাগোলা ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও বেপরোয়া দুর্নীতির এক নজিরবিহীন তথ্য উঠে এসেছে। সরকারি স্পর্শকাতর ওয়েবসাইটের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড নিজের দাপ্তরিক সীমানা ছাড়িয়ে মুন্না নামের এক বহিরাগত ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, নওগাঁ সদরের
মাদার মোল্লা বাসিন্দা মুন্না নামের এই ব্যক্তির সাথে দীর্ঘ বেশ কয়এক বছর ধরে কাজের সখ্যতা মোস্তাফিজুর রহমানের। বিগত বছরে এই ভূমি কর্মকর্তা যেসব কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করেছেন, সবখানেই এই মুন্নাকে সাথে নিয়েই উপ সহাকরী মোস্তাফিজুর রহমান তার দাপ্তরিক কাজ করে আসছতে এই মুন্না। বর্তমানে আহসানগঞ্জ সাহাগোলা ভূমি অফিসে সরকারি অনলাইনের যাবতীয় গোপন এক্সেস ও পাসওয়ার্ড মুন্নার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যা দিয়ে জালিয়াতি ও অবৈধ লেনদেনের রামরাজত্ব চালানো হচ্ছে বলে দাবি সেবাপ্রার্থীদের।
এর আগে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সেবাপ্রার্থীদের কাজ করে দিবেন বলে নগদ ১ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ করেন, কাজ করে দিতে না পারায় ভুক্তভোগি টাকা ফেরত চাইলে উল্টো চাঁদাবাজি মামলার হুমকি দেন মোস্তাফিজুর রহমান এবং নামজারির নামে টাকা দাবি করার একাধিক অডিও-ভিডিও প্রমাণ সামনে আসে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে যোগাযোগের জন্য তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সরকারি ওয়েবসাইটের পাসওয়ার্ড বহিরাগতকে দিয়ে কাজ করানোর মতো মারাত্মক অপরাধের বিষয়ে জানতে চাইলে দৈনিক সোনালী কন্ঠকে নওগাঁ জেলা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জান্নাত আরা তিথি জানান, বিষয়টি আমার জানা ছিল না, আপনাদের মাধ্যমেই প্রথম জানলাম। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে এবং তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন।
সুশীল সমাজের প্রশ্ন কে এই মুন্না? একজন সরকারি কর্মকর্তার দাপ্তরিক গোপন পাসওয়ার্ড বহিরাগত মুন্নার হাতে দেওয়া রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা ও আইন লঙ্ঘনের শামিল। স্থানীয়রা এই জালিয়াতি চক্রের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
এ জাতীয় আরো খবর..