×
সদ্য প্রাপ্ত:
  • প্রকাশিত : ২০২৬-১০-১৭
  • ২৩ বার পঠিত
সজীব  ইসলাম, নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর ১৯ বছর বয়সী প্রসূতি মীমের মৃত্যু ঘিরে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। অস্ত্রোপচারের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও শারীরিক অবস্থার অবনতির জন্য নাগেশ্বরী অ্যাপোলো হসপিটাল অ্যান্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিকিৎসাসেবাকে দায়ী করেছেন নিহতের স্বজনরা। তাঁদের অভিযোগ, স্বাভাবিক প্রসবের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ভয়ভীতি দেখিয়ে মীমকে সিজার করানো হয়। পরে অস্ত্রোপচার-পরবর্তী জটিলতায় তাঁর অবস্থার অবনতি হলে রংপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) তাঁর মৃত্যু হয়।

পরিবারের সদস্যরা এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (১২ অক্টোবর) মীমকে নাগেশ্বরী অ্যাপোলো হসপিটাল অ্যান্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করা হয়। পরদিন মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে তাঁর সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর তাঁর শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে বলে স্বজনদের আশ্বস্ত করা হয়েছিল বলে তাঁদের দাবি।

তবে রাত আড়াইটার দিকে মীমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। একপর্যায়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে রংপুরে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে বুধবার (১৪ অক্টোবর) ভোররাতে তাঁকে রংপুরে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ডক্টর্স ক্লিনিক অ্যান্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার তাঁর মৃত্যু হয়।


নিহত মীমের স্বজনদের দাবি, রংপুরে পুনরায় অস্ত্রোপচারের সময় তাঁদের জানানো হয়, আগের অস্ত্রোপচারে প্লাসেন্টা বা গর্ভফুল-সংক্রান্ত সমস্যা ছিল। তাঁদের অভিযোগ, গর্ভাশয়ে গর্ভফুলের অংশ বা অন্যান্য অবশিষ্টাংশ থেকে যাওয়ার কারণে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ বেড়ে মীমের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। এ ছাড়া অস্ত্রোপচারের সেলাই নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।

মীমের স্বামী আল মামুন বাবু বলেন, ভুল অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসায় অবহেলার কারণে আমি আমার স্ত্রীকে হারিয়েছি বলে মনে করি। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই। অ্যাপোলো ক্লিনিকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।

ক্লিনিকের রেজিস্ট্রারে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, মীমের অস্ত্রোপচার করেন প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত চিকিৎসক ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস রুমা। অ্যানেস্থেসিয়ার দায়িত্বে ছিলেন ডা. শবনম খাতুন। তাঁদের সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ক্লিনিকটির পরিচালক নুরুল ইসলাম (ডিএমএফ)।

অভিযোগের বিষয়ে নাগেশ্বরী অ্যাপোলো হসপিটাল অ্যান্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক শাহ আলম ও নুরুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক আলামিন জানান, বিষয়টি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম রসুল রাজার দেখভালে রয়েছে। এ বিষয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।

গোলাম রসুল রাজা বলেন, শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে বিষয়টি সমাধানের জন্য বসার কথা রয়েছে। বিস্তারিত পরে জানাতে পারবেন বলেও জানান তিনি।

নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. সুজন সাহা বলেন, অস্ত্রোপচারের পর প্রসূতি মায়ের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ধরনের ঘটনায় সবাইকে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। প্রসূতিকে ভর্তি করানোর আগে সংশ্লিষ্ট ক্লিনিকের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সক্ষমতা যাচাই-বাছাই করাও জরুরি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...
❮

❯
Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat