আল মামুন চৌধুরী আশা, বিশেষ প্রতিনিধি, ফরিদপুর:
ফরিদপুরের কানাইপুরের তেঁতুলতলা এলাকায় বালুবোঝাই ট্রাক, প্রাইভেটকার ও অটোরিকশার মধ্যে ভয়াবহ ত্রিমুখী সংঘর্ষে নারী ও শিশুসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে ছুটে যায় ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশ। শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে ফরিদপুর-যশোর মহাসড়কের কানাইপুরের তেঁতুলতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুর থেকে মাগুরার দিকে যাচ্ছিল বালুবোঝাই একটি ট্রাক। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি প্রাইভেটকার এবং কানাইপুর থেকে ফরিদপুরগামী একটি অটোরিকশার সঙ্গে ট্রাকটির সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের একপর্যায়ে বালুবোঝাই ট্রাকটি উল্টে অটোরিকশার ওপর পড়ে যায়। এতে অটোরিকশাটি ট্রাক ও বালুর নিচে চাপা পড়ে এবং যাত্রীরা গুরুতর বিপদের মুখে পড়েন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্য ও করিমপুর হাইওয়ে থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। উল্টে পড়া ট্রাক এবং বালুর স্তূপের নিচে চাপা পড়া অটোরিকশা থেকে হতাহতদের উদ্ধারে কাজ করেন উদ্ধারকর্মীরা।
এ দুর্ঘটনায় অটোরিকশার যাত্রী সুমি আক্তার (৪০) ও শিশু শাওন (৮) নিহত হয়েছেন। তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন বলে জানা গেছে। পরে ট্রাক থেকে পড়ে থাকা বালুর স্তূপের নিচ থেকে অটোরিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর পরিচয় জানা যায়নি।
নিহত সুমি আক্তার ও শিশু শাওনের বাড়ি মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর উপজেলার পলাশবাড়িয়া ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামে। একই দুর্ঘটনায় আহত অপর তিনজনকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট, ভোগান্তিতে যাত্রীরা
ভয়াবহ এ দুর্ঘটনার পর ফরিদপুর-যশোর মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে মহাসড়কে চলাচলকারী বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী ও চালকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার কাজ চলছিল।
এদিকে দুর্ঘটনার পর ট্রাকচালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে। তাঁর পরিচয় ও অবস্থান শনাক্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে হাইওয়ে পুলিশ। দুর্ঘটনায় তিনজনের প্রাণহানির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শোক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
মহাসড়কে দ্রুতগতিতে যান চলাচল, অসতর্কতা কিংবা যানবাহন নিয়ন্ত্রণে ত্রুটির মতো বিষয়গুলো সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়াতে চালকদের সতর্কতা, ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং যানবাহন চালানোর সময় সর্বোচ্চ সচেতনতা বজায় রাখা জরুরি।
ফরিদপুর-যশোর মহাসড়কের তেঁতুলতলায় এই দুর্ঘটনা আবারও সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্ব সামনে নিয়ে এসেছে। তিনটি পরিবারের স্বজন হারানোর বেদনার পাশাপাশি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষ।
এ জাতীয় আরো খবর..