অর্থনীতি ব্যুরো:
দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী সিটি গ্রুপের ঋণ আপাতত খেলাপি হিসেবে নথিভুক্ত না করতে ঋণদাতা ব্যাংকগুলোকে পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে বর্তমান সংকট কাটিয়ে গ্রুপটিকে স্বাভাবিক ব্যবসায় ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দিতে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ পুনর্গঠন ও পুনঃ তফসিলের সুবিধা বিবেচনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ব্যবসা সচল রাখতে নতুন মূলধন জোগানের জন্য ঋণদাতা ব্যাংকগুলোর সমন্বয়ে একটি জোট (কনসোর্টিয়াম) গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে এসব পরামর্শ ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান, ডেপুটি গভর্নর কবির আহাম্মদ ও সরোয়ার হোসেন, বিভিন্ন ঋণদাতা ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহী এবং সিটি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হাসান এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
মোট ঋণের পরিমাণ: বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, দেশি-বিদেশি মোট ৪৭টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে বর্তমানে সিটি গ্রুপের ঋণের পরিমাণ প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যস্থতা: গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এসব ঋণ খেলাপি না করার নির্দেশনা থাকলেও সেই সময়সীমা শেষ হওয়ায় কয়েকটি ব্যাংক আইনি পদক্ষেপের উদ্যোগ নিয়েছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গ্রুপটির ব্যবসা যাতে বন্ধ হয়ে না যায়, সে বিষয়ে মধ্যস্থতা করতে এই বৈঠক ডাকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি: সৈয়দ মাহবুবুর রহমান জানান, সিটি গ্রুপ অতীতে কখনোই খেলাপি হয়নি, তাই এই শিল্পগোষ্ঠীকে সহায়তা দিয়ে পূর্বের সুস্থ ধারায় ফেরাতে ব্যাংকগুলো অত্যন্ত আগ্রহী।
সাউথইস্ট ব্যাংকের এমডি: খালিদ মাহমুদ খান উল্লেখ করেন, চলতি মাসের মধ্যেই ঋণ নিয়মিতকরণের অংশ হিসেবে এককালীন কিছু অর্থ জমা দেবে সিটি গ্রুপ, এরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হবে।
পূবালী ব্যাংকের এমডি: মোহাম্মদ আলী বলেন, গ্রুপটিকে সচল ও স্বাভাবিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে সভায় নানা গঠনমূলক পরামর্শ এসেছে এবং সবাই চায় দেশের এই শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী ঘুরে দাঁড়াক।