×
  • প্রকাশিত : ২০২৬-১০-২৯
  • ২২ বার পঠিত

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সার্বিক পরিবেশকে বর্জ্যমুক্ত, দূষণহীন ও স্বাস্থ্যসম্মত হিসেবে গড়ে তোলার বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বর্তমান সরকার। জাপানের রাজধানী টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি শহর হিসেবে ঢাকাকে গড়ে তোলার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য রয়েছে বলে ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জাপানের টোকিওতে অবস্থিত ‘হোটেল নিউ ওতানি’-তে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা তুলে ধরেন। স্থানীয় বাংলাদেশ কমিউনিটির উদ্যোগে আয়োজিত উক্ত অনুষ্ঠানে প্রবাসীদের পক্ষ থেকে আসা নানা ধরনের প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, টোকিও শহরের রাজপথে কোনো ধরনের ময়লা-আবর্জনার চিহ্ন দেখা যায় না। কিন্তু অন্যদিকে ঢাকা শহরের মোড়ে মোড়ে বর্জ্যের স্তূপ জমে থাকতে দেখা যায়। এই অশুভ পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন হওয়া দরকার। যত্রতত্র ফেলা বর্জ্য থেকে প্রাণঘাতী জীবাণু ছড়াতে পারে। সেই কারণে প্রতিটি নাগরিকের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং সঠিক উপায়ে বর্জ্য নিষ্কাশন সুনিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি আরও জানান, বায়ুদূষণ রোধ করা, সার্বিক পরিবেশের সার্বিক মানোন্নয়ন করা এবং দেশব্যাপী ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে বিভিন্ন উদ্যোগ হাতে নেওয়া হচ্ছে। দেশবাসীর জীবনযাত্রার সার্বিক মান বাড়াতে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ সুনিশ্চিত করাকে সর্বাধিক প্রাধান্য দিচ্ছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, রাস্তায় জমে থাকা ময়লা-আবর্জনার ফলে সাধারণ পথচারীর চলাচলে যেন কোনো প্রকার দুর্ভোগ না ঘটে এবং দূষিত বাতাসের কারণে কাউকে যেন ব্যাধিগ্রস্ত হতে না হয়, সে বিষয়ে কঠোর আইনি ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ঢাকাকে যদি টোকিও শহরের ন্যায় আধুনিক ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা যায়, তবে তা দেশের ইতিহাসে একটি বিশাল সংস্কার হিসেবে গণ্য হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রাষ্ট্রীয় সংস্কারের মূল সুফল সমাজের একেবারে প্রান্তিক ও খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াকেই বর্তমান সরকারের মূল অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য ও সার্বিক পরিবেশের ইতিবাচক উন্নয়নে এমন কর্মসূচি নেওয়া দরকার, যাতে দেশের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ সরাসরি তার লাভ পান।

প্রধানমন্ত্রী জানান, একজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি সর্বদা এমন সংস্কারমূলক উদ্যোগকে অগ্রাধিকার দেন, যার মূল সুফল দেশের নিম্নবিত্ত ও সাধারণ মানুষ ভোগ করতে পারেন। সরকারের মূল লক্ষ্যই হলো দেশের মেহনতি মানুষের জীবনমান দৃশ্যমানভাবে উন্নত করা।

এসব গঠনমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়নে দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের জনগণের সক্রিয় সহায়তা চেয়ে তিনি বলেন, দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের অকৃত্রিম সমর্থন ও সহযোগিতা পেলে আমাদের কাঙ্ক্ষিত নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

অভিযোগ তুলে তারেক রহমান বলেন, সাধারণ মানুষের সরাসরি কল্যাণে আসবে এমন সব ইতিবাচক সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের পথে বিএনপি সরকারকে বাধার মুখে ফেলার ষড়যন্ত্র চলছে।

উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকারের গৃহীত উন্নয়ন ও সংস্কারমূলক উদ্যোগগুলো পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়িত হলে প্রবাসীদের পরিবারসহ দেশের সর্বস্তরের জনগণ উপকৃত হবেন। তাই এই জনকল্যাণমুখী উদ্যোগগুলোকে সমর্থনের আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত প্রবাসীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি সরাসরি বলছি না যে আপনারা কেবল বিএনপিকে ভোট দিন। আমাদের নেওয়া কাজগুলো যদি আপনাদের কাছে যুক্তিযুক্ত ও সঠিক মনে হয়, তবেই সমর্থনের হাত বাড়িয়ে দিন, যাতে আমরা সেগুলো বাস্তবে রূপ দিতে পারি।’

তাঁর এই বক্তব্যে মিলনায়তনে উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশিরা ঘন ঘন করতালির মাধ্যমে তাঁকে পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দেন।

তারেক রহমান আরও যোগ করেন, কিছু কিছু সংস্কারের ফলে হয়তো সীমিত বা নির্দিষ্ট কিছু মানুষ সাময়িকভাবে উপকৃত হতে পারেন। তবে তাঁর মূল অগ্রাধিকার হলো এমন সব বড় উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন করা, যার মাধ্যমে দেশের বৃহত্তম জনগোষ্ঠী সরাসরি লাভবান হবে। এসব কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করতে অক্লান্ত পরিশ্রম, পারস্পরিক ধৈর্য ও ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার কথা স্মরণ করিয়ে দেন তিনি। দেশের এই নবযাত্রায় তিনি প্রবাসীদের পূর্ণ সহযোগিতা ও দোয়া প্রার্থনা করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশীদের সামনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে সরকারের আগামী দিনের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরেন তারেক রহমান। প্রবাসীদের কোমলমতি সন্তানদের জাপানি ভাষা শেখানো, উন্নত চিকিৎসা ও ক্রীড়াক্ষেত্রসহ নানা ক্ষেত্রে দক্ষ ও যোগ্য করে গড়ে তোলা, ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা সহজ করা, বন্ধ থাকা সকল কলকারখানা পুনরায় চালু করা, নতুন বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করা এবং প্রচুর কর্মসংস্থান সৃষ্টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন তিনি।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সম্মানিত সদস্য আবদুস সাত্তার পাটোয়ারীর দক্ষ সঞ্চালনায় উক্ত মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. জুবাইদা রহমান, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ প্রধানমন্ত্রীর উচ্চপর্যায়ের সফরসঙ্গীরা।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে জাপান বিএনপির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানের হাতে একটি স্মারক আলোকচিত্র উপহার হিসেবে তুলে দেওয়া হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...
❮

❯
Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat