×
সদ্য প্রাপ্ত:
পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন: গার্মেন্টস মালিকদের সঙ্গে সচিবালয়ে বৈঠকে বসেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ গাজীপুরের চন্দ্রা থেকে কোনাবাড়ী পর্যন্ত সব পোশাক কারখানা ছুটি ঘোষণা তাহসিফ সউরি হত্যা মামলায় ৪ দিনের রিমান্ডে দীপ পুলিশের ছয় কর্মকর্তাকে বদলি তুরাগে সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন মোড়, ঘটনাস্থলের কাছেই মিলল মোটরসাইকেল মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলাঃ মাহবুব উল আলম হানিফের মৃত্যুদণ্ড বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের ৮৫তম জন্মবার্ষিকী আজ ২৪ ঘন্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৯৮২ জন আইইডিসিআরের কার্যালয়ে ঢুকে পরিচালককে মারধর, অভিযোগ ড্যাবের বিরুদ্ধে
  • প্রকাশিত : ২০২৬-১১-০১
  • ৩০ বার পঠিত

নিজেদের সুপ্ত মেধা, নিত্যনতুন উদ্ভাবন আর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে সরাসরি ভূমিকা রাখতে তরুণ ও যুবসমাজের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি উল্লেখ করেন, উদীয়মান তরুণদের নতুন নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়নে উৎসাহ দিতে সরকার ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ স্টার্টআপ তহবিল বরাদ্দ দিয়েছে। অর্থাভাবে যাতে কোনো সম্ভাবনাময় উদ্যোগ থমকে না যায়, সে লক্ষ্যেই দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্টার্টআপ খাতে আলাদা বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে।

আজ শনিবার আগামী ১ নভেম্বর ‘জাতীয় যুব দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে স্পষ্ট করেন যে, যেকোনো রাষ্ট্রের প্রাণশক্তি ও সার্বিক প্রগতির মূল চালিকাশক্তি হলো তরুণ সমাজ। একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে যেকোনো জাতীয় সংকট সমাধান এবং সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাওয়ার সর্বক্ষেত্রে তরুণদের অবিস্মরণীয় অবদান রয়েছে। জাতির ইতিহাস জুড়ে সব বাধা জয় করতে ও দেশের অগ্রগতি বজায় রাখতে যুবসমাজই অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।

তিনি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশ পুনর্গঠনে যুবসমাজের অপার সম্ভাবনা প্রত্যক্ষ করে তাদেরকে সুসংগঠিত করার যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর দূরদর্শী নির্দেশনায় ১৯৭৮ সালে তৎকালীন যুব উন্নয়ন মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠিত হয়, যা পরবর্তীকালে আজকের ‘যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়’ হিসেবে পরিচিতি পায়।

তিনি আরও জানান, একদম প্রান্তিক পর্যায়ে তরুণদের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ১৯৮১ সালে গঠন করা হয় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর।

প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিচারণ করে বলেন, পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে তরুণদের কাজের ক্ষেত্র বড় করতে এবং কারিগরি ও বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদের পায়ে দাঁড় করানোর লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি জেলায় যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলার দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নেন।

তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ৮০ লক্ষেরও বেশি যুবক-যুবতীকে বিভিন্ন মেয়াদের আধুনিক দক্ষতা প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মাঝে প্রায় ২৫ লক্ষ তরুণ-তরুণী সফল আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হতে সক্ষম হয়েছেন। বর্তমানে তাঁরা প্রতি মাসে ২০ হাজার থেকে শুরু করে ১ লাখ টাকা, এমনকি অনেকের ক্ষেত্রে তার চেয়েও বেশি অর্থ উপার্জন করছেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও তথ্য প্রকাশ করেন, তরুণ উদ্যোক্তাদের এগিয়ে নিতে ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত সর্বমোট ২ হাজার ৮৬১ কোটি ৮৭ লাখ টাকার সহজ শর্তে যুব ঋণ প্রদান করা হয়েছে।

জাতীয় যুব পুরস্কার দেওয়ার এই পদক্ষেপকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ অভিহিত করে তিনি বলেন, দেশ গড়ার কাজে অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে এ যাবৎ ৫৪৬ জন আত্মসংস্থানকারী তরুণ-তরুণী ও যুব সংগঠককে রাষ্ট্রীয় সম্মাননায় ভূষিত করা হয়েছে। এ বছর যাঁরা এই সম্মাননা পেলেন, তাঁদের প্রতিও আন্তরিক অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি মন্তব্য করেন, প্রচলিত ডিগ্রির পাশাপাশি প্রযুক্তি ও কারিগরি ক্ষেত্রে পারদর্শিতা অর্জন বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যুবসমাজকে টিকিয়ে রাখার মূল হাতিয়ার। দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে না পড়তে তরুণদের আধুনিক জ্ঞান ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতায় পরিপক্ব হতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর পরই দ্রুততম সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) বিষয়ক বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করেছে। ফ্রিল্যান্সিং ও এআই ভিত্তিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে তরুণরা তাঁদের মেধার স্বাক্ষর রাখার পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কাজ করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন।

পরিবেশ সুরক্ষায় যুবসমাজের বলিষ্ঠ ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, 'ইমপ্যাক্ট' প্রকল্পের অধীনে যুবসমাজ জৈব গ্যাস বা বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন করে জলবায়ু ও পরিবেশ রক্ষায় ইতিবাচক অবদান রাখছে।

এর পাশাপাশি তিনি আধুনিক স্মার্ট কৃষি, রপ্তানি উপযোগী মোড়কীকরণ বা প্যাকেজিং, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প, বিশ্বমানের আন্তর্জাতিক ভাষা শিক্ষা এবং নতুন নতুন উদীয়মান খাতগুলোতে আরও বিস্তৃত প্রশিক্ষণ চালুর জোর তাগিদ দেন। এসব বাস্তবমুখী উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্বমানের দক্ষ ও প্রতিযোগিতাসক্ষম একটি মানবসম্পদ গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

‘জাতীয় যুব দিবস-২০২৬’-এর মূল প্রতিপাদ্য ‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সুদৃঢ় নেতৃত্ব এবং আগামীর অগ্রযাত্রায় দেশের যুবসমাজ আরও কার্যকর ও বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে যাবে।

বাণীর পরিশেষে তিনি জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উপলক্ষে নেওয়া যাবতীয় কর্মসূচির সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...
❮

❯
Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat