মুজাহিদ হোসেন,নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাতারাতি জনপ্রিয় হওয়ার নেশায় টিকটকসহ বিভিন্ন ভিডিও প্ল্যাটফর্মে আপত্তিকর কনটেন্ট তৈরির প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের একটি অংশের এমন কর্মকাণ্ড সামাজিক মূল্যবোধ, পারিবারিক বন্ধন ও তরুণ প্রজন্মের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল।
নওগাঁকে ঘিরে ‘জান’ নামের এক টিকটকারের ব্যক্তিগত জীবন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিও নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জানের পৈতৃক বাড়ি নওগাঁয় না হলেও তার নানাবাড়ি এ জেলায়। শৈশব ও বেড়ে ওঠার একটি সময় তিনি নওগাঁতেই কাটিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, জান আগে বিবাহিত ছিলেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও তৈরি ও বিভিন্ন নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা নিয়ে পারিবারিক বিরোধের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
একপর্যায়ে নওগাঁর বোয়ালিয়া এলাকার লিজা নামের এক তরুণীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে তাদের বিয়ে হয় বলে জানা গেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আগের সংসারের বিচ্ছেদ ঘটে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। তবে জানের ভাষ্য, লিজা তার স্ত্রী ছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে তিনি তাকে তালাক দিয়েছেন।
এদিকে, লিজার সঙ্গে সম্পর্ক চলাকালে বিভিন্ন নারীর সঙ্গে জানের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে বিরোধের অভিযোগও রয়েছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে লিজার নাচের পরিবেশনা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।
সর্বশেষ নওগাঁ সদর উপজেলার ইদুর বটতলী এলাকার বৈশাখী নামের এক তরুণীর সঙ্গে জানের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে এলাকায় আলোচনা চলছে। স্থানীয়দের দাবি, তারা বর্তমানে স্বামী-স্ত্রীর মতো একসঙ্গে চলাফেরা ও বসবাস করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিওর উপস্থাপন ও অঙ্গভঙ্গি নিয়েও সমালোচনা করছেন অনেকে।
এ ছাড়া বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নাচের পরিবেশনা এবং ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু ভিডিওর বিষয়বস্তু নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
অন্যদিকে, জানের অবস্থানরত বাসায় সন্ধ্যার পর বিভিন্ন তরুণ-তরুণীর আনাগোনা এবং সেখানে মাদক সেবনের আসর বসার অভিযোগও উঠেছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জান বলেন, “বৈশাখীর সঙ্গে আমার বিয়ে হয়নি। তবে মানুষ আমাদের স্বামী-স্ত্রী মনে করে। আমি নওগাঁ সদর উপজেলার শিবপুর এলাকায় বসবাস করি। লিজা আমার স্ত্রী ছিলেন, তাকে তালাক দিয়েছি। বাসায় মাদক সেবনের আসর বসার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জনের প্রতিযোগিতায় ব্যক্তিগত সম্পর্ক, পারিবারিক দায়িত্ববোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয়গুলো কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিকরা। তাদের মতে, প্রযুক্তির ব্যবহার ও বিনোদনের স্বাধীনতা থাকলেও তা যেন সামাজিক শালীনতা, ব্যক্তিগত মর্যাদা ও অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ন করার মাধ্যম না হয়।
ভাইরাল হওয়ার প্রতিযোগিতায় সামাজিক মূল্যবোধ কি ক্রমেই উপেক্ষিত হচ্ছে? নওগাঁকে ঘিরে আলোচিত এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন এমন প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে স্থানীয়দের মধ্যে।
এ জাতীয় আরো খবর..