×
সদ্য প্রাপ্ত:
আন্দোলনের নামে যারা সহিংসতা করছে, তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন: গার্মেন্টস মালিকদের সঙ্গে সচিবালয়ে বৈঠকে বসেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ গাজীপুরের চন্দ্রা থেকে কোনাবাড়ী পর্যন্ত সব পোশাক কারখানা ছুটি ঘোষণা তাহসিফ সউরি হত্যা মামলায় ৪ দিনের রিমান্ডে দীপ পুলিশের ছয় কর্মকর্তাকে বদলি তুরাগে সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন মোড়, ঘটনাস্থলের কাছেই মিলল মোটরসাইকেল মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলাঃ মাহবুব উল আলম হানিফের মৃত্যুদণ্ড বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের ৮৫তম জন্মবার্ষিকী আজ ২৪ ঘন্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৯৮২ জন
  • প্রকাশিত : ২০২৬-১১-০১
  • ৩৬ বার পঠিত
খন্দকার মোহাম্মাদ আলী বাবু, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসাপদ্ধতির প্রবর্তক মহাত্মা স্যামুয়েল হ্যানিম্যানের চিকিৎসাদর্শন, নীতিমালা ও আদর্শ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা হয়ে আসছে। তাঁর প্রণীত ‘অর্গানন অব মেডিসিন’ (Organon of Medicine) গ্রন্থে চিকিৎসকের জ্ঞান, রোগ নির্ণয়, ওষুধ নির্বাচন এবং রোগীর আরোগ্যের পথে বাধা দূর করার বিষয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে আধুনিকতার প্রভাবে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসাসেবার মূলনীতি ও প্রয়োগপদ্ধতি নিয়ে নানা আলোচনা ও প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে।

হোমিও চিকিৎসক ড: কামাল হোসেন জানান, হ্যানিম্যানের দর্শন অনুযায়ী, একজন আদর্শ চিকিৎসকের যোগ্যতা কেবল কোনো নির্দিষ্ট ডিগ্রি অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং রোগ সম্পর্কে জ্ঞান, ওষুধের গুণাগুণ সম্পর্কে ধারণা, সঠিক প্রয়োগপদ্ধতি এবং রোগীর সুস্থতার পথে বাধা সৃষ্টিকারী বিষয়গুলো চিহ্নিত করার সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ।

ত্রিরত্না স্বাস্থ্যসেবা ফাউন্ডেশনের চিকিৎসক মোছা: শাকিলা খাতুন জানান, হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত ‘অর্গানন অব মেডিসিন’-এর তৃতীয় সূত্র বা অ্যাফোরিজম ৩-এ একজন চিকিৎসকের প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দায়িত্ব সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এই সূত্রে রোগ সম্পর্কে যথাযথ ধারণা, ওষুধের কার্যকারিতা সম্পর্কে জ্ঞান, রোগীর উপযোগী ওষুধ নির্বাচন এবং আরোগ্যের পথে বাধা দূর করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

হ্যানিম্যানের তৃতীয় সূত্রের আলোচনায় রোগীকে বোঝার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। একজন রোগীর শারীরিক ও মানসিক উপসর্গ, রোগের ইতিহাস এবং ব্যক্তিগত অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত ধারণা নেওয়া চিকিৎসার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। একই ধরনের অসুস্থতায় আক্রান্ত হলেও বিভিন্ন রোগীর উপসর্গ ও শারীরিক অবস্থা ভিন্ন হতে পারে। তাই রোগীর সামগ্রিক অবস্থা মূল্যায়ন করে চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

ড: খন্দকার মোহাম্মাদ আলী জানান, চিকিৎসকের জন্য ওষুধের গুণাগুণ, সম্ভাব্য কার্যকারিতা, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং নিরাপদ ব্যবহারের বিষয়ে যথাযথ জ্ঞান থাকা জরুরি। হোমিওপ্যাথির ঐতিহ্যগত পদ্ধতিতে সুস্থ মানুষের ওপর ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে উপসর্গ পর্যবেক্ষণকে ‘ড্রাগ প্রুভিং’ বলা হয়। তবে কোনো ওষুধের কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নির্ধারণে আধুনিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণের গুরুত্বও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

হ্যানিম্যানের চিকিৎসাদর্শনে রোগীর উপসর্গের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ওষুধ নির্বাচনের ধারণা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি ওষুধের মাত্রা, প্রয়োগের নিয়ম এবং পুনরায় প্রয়োগের সময় নির্ধারণের বিষয়টিও আলোচিত হয়েছে। তবে চিকিৎসার ক্ষেত্রে রোগের প্রকৃতি, রোগীর শারীরিক অবস্থা এবং চিকিৎসার নিরাপত্তা বিবেচনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গুরুতর বা জটিল রোগের ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত চিকিৎসা গ্রহণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

রোগীর সুস্থতার ক্ষেত্রে পুষ্টিকর খাবার, স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক সুস্থতা এবং স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনের গুরুত্ব রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ও ক্ষতিকর অভ্যাস স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই রোগীর সামগ্রিক জীবনযাপন সম্পর্কে ধারণা নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ দেওয়া চিকিৎসাসেবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার ক্ষেত্রে BHMS, DHMS ও DMS-এর মতো শিক্ষাগত যোগ্যতা ও ডিগ্রির প্রসঙ্গ প্রায়ই আলোচনায় আসে। তবে মহাত্মা হ্যানিম্যানের চিকিৎসাদর্শন এবং বর্তমান রাষ্ট্রীয় আইন ও পেশাগত স্বীকৃতির বিষয় দুটি আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। কে কোন যোগ্যতায় চিকিৎসাসেবা দিতে পারবেন, তা সংশ্লিষ্ট দেশের প্রচলিত আইন, স্বীকৃত শিক্ষাগত যোগ্যতা ও নিবন্ধনবিধির ওপর নির্ভরশীল। তাই শুধু হ্যানিম্যানের দর্শনের ভিত্তিতে কোনো নির্দিষ্ট ডিগ্রিধারী গোষ্ঠীর চিকিৎসার একচেটিয়া অধিকার রয়েছে বা নেই, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে প্রাসঙ্গিক আইন ও বিধিমালা যাচাই করা প্রয়োজন।

মহাত্মা স্যামুয়েল হ্যানিম্যানের ‘অর্গানন অব মেডিসিন’-এর তৃতীয় সূত্র চিকিৎসকের জ্ঞান, দায়িত্ব ও রোগীর সামগ্রিক অবস্থা বোঝার গুরুত্ব তুলে ধরে। চিকিৎসাসেবা শুধু ওষুধ নির্বাচনেই সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে রোগ সম্পর্কে সঠিক ধারণা, নিরাপদ চিকিৎসাপদ্ধতি এবং রোগীর সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ও জড়িত।

তবে চিকিৎসার ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক দর্শনের পাশাপাশি আধুনিক বৈজ্ঞানিক প্রমাণ, রোগীর নিরাপত্তা এবং প্রচলিত আইন মেনে চলাও অপরিহার্য। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নে এসব বিষয়ে সচেতনতা, যথাযথ প্রশিক্ষণ এবং পেশাগত দায়িত্বশীলতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...
❮

❯
Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat