নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
দেশে নিরবচ্ছিন্ন ও স্থায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পারিপার্শ্বিকতার কারণে জ্বালানি সংকট এখনও পুরোপুরি কাটেনি। তবে অতীতে সংঘটিত ব্যর্থতা নিয়ে কেবল সমালোচনায় ব্যস্ত না থেকে, সামনের দিনগুলোতে কীভাবে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ প্রাপ্তি নিশ্চিত করা যায়, সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে।
আজ মঙ্গলবার ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করে তিনি এসব কথা বলেন। উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
একটি আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রধান শর্ত হিসেবে নিজস্ব জ্বালানি উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজস্ব উৎসের ওপর ভিত্তি করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে দেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো’ একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই সোলার এক্সপোতে দেশের নানাপ্রান্ত থেকে সৌরবিদ্যুৎ খাতের উদ্যোক্তা, বিভিন্ন সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং উদীয়মান তরুণ কর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এটিই প্রমাণ করে যে, অতীতে কুইক রেন্টালের নামে যত্রতত্র লুটপাট চালানোর পরিবর্তে সম্পূর্ণ সাশ্রয়ী ও বিকল্প পন্থায় পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা পুরোপুরি সম্ভব। বর্তমান বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত কেবল আর কোনো সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র নয়, বরং এটি দেশের জন্য একটি অনিবার্য বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে।
সৌরবিদ্যুৎ খাতের ব্যাপক বিস্তার ঘটানোর লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গঠন করেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি ঘোষণা দেন যে, আগামী এক বছরের মধ্যেই দেশের প্রায় ১৭ হাজার সেচ পাম্পকে সম্পূর্ণ সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসা হবে। এর মাধ্যমে প্রতি বছর সৌরশক্তি থেকে প্রায় ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এমনকি আগামী গ্রীষ্মকাল শুরু হওয়ার আগেই জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে অতিরিক্ত ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অতীতের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিগত দিনে দেশকে একটি সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছিল। বর্তমান প্রশাসন সেই অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে চায়। বিশেষ করে অর্থের অভাবে যাতে দেশের কোনো উদ্যোক্তা পিছিয়ে না পড়েন, সে বিষয়ে সব ধরনের সহায়তা দিতে সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে।