রংপুর ব্যুরো:
রংপুর মহানগরীর স্থানীয় বাজারগুলোতে এক সপ্তাহের ব্যবধানে মুরগি, ময়দা এবং কয়েকটি শীতকালীন ও গ্রীষ্মকালীন সবজির দাম বেড়েছে। তবে উল্টো চিত্রে ডিম, দেশি রসুন ও কাঁচামরিচের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। এছাড়া চাল, ভোজ্যতেল, মাংস ও মাছের বাজার মোটের ওপর অপরিবর্তিত রয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) নগরীর ঐতিহ্যবাহী সিটি বাজার, মুলাটোল আমতলা বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে পণ্যের দরদামের এই হালনাগাদ চিত্র পাওয়া গেছে।
মুরগির দাম চড়া: মাসের শুরুতে চাহিদা বাড়ায় পাকিস্তানি সোনালি ও হাইব্রিড জাতের মুরগির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে।
সোনালি মুরগি: ৩৩০–৩৪০ টাকা (আগে ছিল ৩১০–৩২০ টাকা)।
হাইব্রিড মুরগি: ৩০০–৩১০ টাকা (আগে ছিল ২৯০–৩০০ টাকা)।
অন্যান্য: ব্রয়লার ১৭০–১৮০ টাকা, লেয়ার ৩৪০–৩৫০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৫৪০–৫৫০ টাকা কেজিতে স্থিতিশীল।
ডিমে স্বস্তি: চাহিদা সত্ত্বেও বাজারে যোগান ভালো থাকায় হালিপ্রতি ডিমের দাম ৪ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৪২–৪৪ টাকায় (গত সপ্তাহে ছিল ৪৬–৪৮ টাকা)।
দাম কমেছে যেগুলোর:
কাঁচামরিচ: কেজিতে ৩০-৪০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৫০–৬০ টাকায়।
সবজি: নতুন শীতকালীন বাঁধাকপি ও মূলা কমে ২৫–৩০ টাকা এবং শিম কমে ৫০–৬০ টাকায় নেমেছে।
রসুন: দেশি রসুন ১০ টাকা কমে ১১০–১২০ টাকা হলেও ভারতীয় রসুনের দর বেড়ে হয়েছে ২২০–২৪০ টাকা।
দাম বেড়েছে যেগুলোর:
গাজর (১৪০–১৬০ টাকা), চালকুমড়া (৪০–৫০ টাকা), কাঁচকলা (হালি ৩০–৩৫ টাকা), বরবটি (৫০–৬০ টাকা), মিষ্টিকুমড়া (৪০–৫০ টাকা) এবং ধনেপাতা (দ্বিগুণ বেড়ে ৬০–৮০ টাকা)।
অপরিবর্তিত সবজি: টমেটো (১২০–১৪০ টাকা), কাঁকরোল (৫০–৬০ টাকা), শসা (৪০–৫০ টাকা), আলু (জাতভেদে ১৮–৫০ টাকা) এবং দেশি পেঁয়াজ (৪৫–৫০ টাকা)।
আটা ও ময়দা: প্যাকেটজাত ময়দার দাম কেজিপ্রতি ৫-১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৮৫–৯০ টাকায়। প্যাকেট আটা (৬০–৬৫ টাকা) এবং খোলা আটা (৫০–৫৫ টাকা) অপরিবর্তিত রয়েছে।
চাল ও ভোজ্যতেল: চালের বাজার স্বাভাবিক—মোটা স্বর্ণা ৪৮–৫০ টাকা, বিআর২৮ ৬০–৬৫ টাকা, মিনিকেট ৮০–৮৫ টাকা এবং নাজিরশাইল ৮৫–৯০ টাকা। বোতলজাত সয়াবিন তেল ২০৫–২১০ টাকা এবং খোলা সয়াবিন ২০০–২২০ টাকা।
মাংস ও মাছ: গরুর মাংস (৭২০–৭৫০ টাকা) ও খাসির মাংস (১,০০০–১,১০০ টাকা) পূর্বের দামেই রয়েছে। আকারভেদে রুই (২৫০–৪৫০ টাকা), পাঙাস (১৫০–২০০ টাকা) ও কাতল (৩০০–৫০০ টাকা) স্বাভাবিক মূল্যে বিক্রি হচ্ছে।
মুলাটোল আমতলা বাজারের সবজি বিক্রেতা শাহীন জানান, শীতকালীন সবজি বিশেষ করে মূলা, বাঁধাকপি ও ফুলকপির আমদানি আরও বাড়লে অন্যান্য সবজির দামও শিগগিরই নাগালে চলে আসবে। অন্যদিকে মুরগি বিক্রেতা জাহাঙ্গীরের মতে, মাসের শুরুতে চাকুরিজীবী ও পরিবারগুলোর কেনাকাটা বৃদ্ধি পাওয়ায় চাহিদা সামাল দিতে গিয়ে মুরগির দর কিছুটা বেড়েছে।