শেরপুর প্রতিবেদক:
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় চলতি মৌসুমে আমন ধানের বাম্পার ফলনের উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার ধানের ফলন অত্যন্ত ভালো হয়েছে। এর পাশাপাশি নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক জমিতে আমন আবাদ করেছেন স্থানীয় কৃষকেরা। ফলে সবমিলিয়ে আমনের মোট উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা সহজেই ছাড়িয়ে যাবে বলে জোরালো আশা প্রকাশ করেছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। এরই মধ্যে কৃষকেরা তাঁদের ক্ষেতের আগাম জাতের আমন ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ পুরোদমে শুরু করে দিয়েছেন।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে পুরো উপজেলায় মোট হাইব্রিড জাতের ধান ৪ হাজার ৭৮০ হেক্টর, উচ্চফলনশীল (উফশী) জাতের ৬ হাজার ৭০৪ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের ৩ হাজার ১৭৮ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করা হয়েছে। তবে স্থানীয় কৃষকদের দেওয়া মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, বেসরকারি হিসাবে এই উপজেলায় প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধানের ব্যাপক আবাদ হয়েছে।
এ অঞ্চলের চাষাবাদে ব্যবহৃত জনপ্রিয় স্থানীয় জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে বাসমতি, কালিজিরা, মোহনভোগ, তুলসীমালা, চিনিগুড়া ও জামাই আদুরিসহ আরও বেশ কিছু ঐতিহ্যবাহী জাত। এছাড়া নতুন আগাম জাতের ‘ব্রি ধান-১০৩’ চাষ করেও কৃষকেরা সন্তোষজনক ফলন পেয়েছেন। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মঞ্জুরুল হক জানান, উৎপাদিত এসব ধানের ক্ষেত্রে প্রতি একর জমিতে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া গেছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদুজ্জামান নূর আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, চলতি মৌসুমে আমন ধানের সার্বিক উৎপাদন নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অনেক বেশি অর্জিত হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ফরহাদ হুসেন জানান, আবহাওয়া সার্বিকভাবে অনুকূলে থাকায় এবার আমনের ফলন দারুণ হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ধান কাটা ও মাড়াই সম্পূর্ণরূপে শেষ হওয়া পর্যন্ত যদি বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত না হানে, তবে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা সহজেই ছাড়িয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, চলতি আমন মৌসুমে এই উপজেলায় মোট ধান উৎপাদনের প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৬৯ হাজার ৫৫৪ মেট্রিক টন। তবে মাঠের বর্তমান পরিস্থিতি ও বাম্পার ফলন দেখে কৃষি বিভাগ প্রত্যাশা করছে যে, প্রকৃত উৎপাদন এই লক্ষ্যমাত্রাকেও ছাড়িয়ে যাবে।