×
সদ্য প্রাপ্ত:
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে ধানক্ষেত এর পাশ থেকে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার মোন্থা’ এখন প্রবল ঘূর্ণিঝড়, বেড়েছে বাতাসের গতিবেগ না ফেরার দেশে তিনবারের বিশ্বজয়ী হাফেজ ত্বকী অস্ত্র মামলায় সম্রাটের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে অধিগ্রহণকৃত জমির ক্ষতিপূরণ পরিশোধের দাবি সিলেটে দুই ট্রাক সাদাপাথর জব্দ, চালকদের দেড় লাখ টাকা জরিমানা হবিগঞ্জে জামায়াত প্রার্থীর গাড়িতে দুর্বৃত্তদের হামলা ঢাকার ফ্লাইট নামছে চট্টগ্রাম-কলকাতায় মক্কায় এক সপ্তাহে ১৩.৫ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ দুটি পবিত্র মসজিদ পরিদর্শন করেছেন শিক্ষকদের ‘মার্চ টু সচিবালয়’ শুরু, পুলিশের বাধা
  • প্রকাশিত : ২০২৫-১১-০৯
  • ২৯৮ বার পঠিত
মোঃঅলি উদ্দিন মিলন, বিশেষ প্রতিনিধি:

দেশের মাঠ প্রশাসনের শীর্ষ পদ জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদে সম্প্রতি ১৫টি জেলায় রদবদল নিয়ে প্রশাসনের অভ্যন্তরে চলছে তুমুল আলোচনা ও বিতর্ক। গভীর রাতে জারি করা এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ঘিরে উঠেছে নজিরবিহীন আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ, যা রাষ্ট্রের নৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন প্রশাসন বিশ্লেষকরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করলেও, অভিযোগের সত্যতা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না।
​নিলামঘরে ডিসি পদ: অভিযোগের কেন্দ্রে কোটি টাকার অঙ্ক
​সাম্প্রতিক ডিসি পদায়নের ক্ষেত্রে টাকার বিনিময়ে পদায়ন হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে দেশের একাধিক গণমাধ্যম। প্রশাসনিক মহলের সূত্র ধরে প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, এই পদটি যেন এখন কার্যত নিলামের পণ্যে পরিণত হয়েছে।
​আলোচিত কয়েকটি অভিযোগ:
​বিশাল অর্থের লেনদেন: অভ্যন্তরীণ গুঞ্জন অনুযায়ী, অপেক্ষাকৃত গুরুত্বপূর্ণ জেলা যেমন কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ এবং ঢাকার ডিসি পদ পেতে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। প্রশাসনিক মহলে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জন অনুযায়ী, ঢাকার ডিসি পদের দর ৫০ কোটি টাকায় উঠেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি ছোট জেলাতেও ঘুষের অঙ্ক ৫ থেকে ১৫ কোটির মধ্যে।
​চেক উদ্ধার ও হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট: দুর্নীতি অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দুই জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নাম। গণমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, এক যুগ্ম সচিবের কক্ষ থেকে তিন কোটি টাকার চেক উদ্ধারের পাশাপাশি একজন সিনিয়র সচিব ও যুগ্ম সচিবের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপে "5C" এবং "10C" (কোটি) টাকা লেনদেন নিয়ে কথোপকথনের তথ্য ফাঁস হয়।
​সরকারের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত ও প্রতিক্রিয়া
​এই নজিরবিহীন অভিযোগ ওঠার পরপরই প্রশাসন ক্যাডারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে অন্তর্বর্তী সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নেয়:
​উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি গঠন: ডিসি নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি গঠন করা হয়। স্বরাষ্ট্র ও তথ্য উপদেষ্টা কমিটিতে সদস্য হিসেবে ছিলেন। কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।
​প্রশাসনের অস্বীকার: যদিও এই কমিটি গঠিত হয়েছিল, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোখলেস উর রহমান প্রকাশ্যে গণমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্টকে 'ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' বলে দাবি করেন। তিনি জালিয়াতির মাধ্যমে চেক তৈরি এবং গুজব ছড়ানোর অভিযোগ এনে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেও অনুরোধ করেন।
​তদন্ত প্রতিবেদন: পরবর্তীকালে, সরকার কর্তৃক গঠিত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পায়নি বলে প্রতিবেদন জমা দেয়। তবে, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একজন সহকারী পরিচালক এই বিষয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধানে ‘অনিয়মের সত্যতা’ পাওয়ার কথা জানালে বিষয়টি আরও জটিল আকার ধারণ করে।

সুশাসনের কফিনে শেষ পেরেক: টিআর-কাবিখা দুর্নীতি সংযোগ
​প্রশাসন বিশ্লেষকদের মতে, ডিসি পদে যদি কোটি টাকার বিনিয়োগ হয়, তবে এই বিনিয়োগকারী কর্মকর্তাকে তাঁর অর্থ তোলার জন্য জনগণের টাকায় হাত দিতে হবে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে সরকারের গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) এবং কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) কর্মসূচির মতো জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোতে।
​মাঠপর্যায়ের অভিযোগ অনুযায়ী, এই প্রকল্পগুলো আজ দুর্নীতির চারণভূমিতে পরিণত হয়েছে। প্রকল্পের প্রতি টনে ৫০০০ টাকা ঘুষ নির্ধারিত—যা নিচ থেকে ওপর পর্যন্ত ভাগ হয়ে যায় বলে প্রশাসনিক মহলে প্রচলিত ধারণা। জনগণের জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ, সরকারি উন্নয়ন বরাদ্দ এবং ত্রাণ কার্যক্রমেও 'অংশীদারি' প্রথা চালুর অভিযোগ উঠেছে।
​অবসরপ্রাপ্ত সচিবের মন্তব্য: "যে পদে জনগণের সেবা ও উন্নয়ন পরিচালনার দায়িত্ব, সেটি যখন কেনাবেচার পণ্যে পরিণত হয়, তখন সেই রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। এই প্রবণতা শুধু দুর্নীতি নয়—রাষ্ট্রের নৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ার সতর্ক সংকেত।"
​১৫ জেলায় পদায়ন: নতুন ডিসিদের তালিকা
​জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নিম্নোক্ত ১৫ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক পদায়ন করা হয়েছে।

জেলা নতুন জেলা প্রশাসক বদলিকৃত স্থান/দপ্তর
ঢাকা মো. শফিউল আলম ডিসি, বরগুনা
নোয়াখালী আহমেদ কামরুল হাসান ডিসি, বাগেরহাট
হবিগঞ্জ আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন ডিসি, কুষ্টিয়া
গাজীপুর মো. আজাদ জাহান ডিসি, ভোলা
গাইবান্ধা মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম ডিসি, সিরাজগঞ্জ
বগুড়া মো. তৌফিকুর রহমান ডিসি, খুলনা
বরগুনা সন্দ্বীপ কুমার সিংহ প্রধান নির্বাহী, সিলেট জেলা পরিষদ
সিরাজগঞ্জ মো. আমিনুল ইসলাম সচিব, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন
মাগুরা মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ একান্ত সচিব, বাণিজ্য উপদেষ্টা
পিরোজপুর আবু সাঈদ উপসচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
সাতক্ষীরা মিজ আফরোজা আখতার জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর, পাবনা
বাগেরহাট গোলাম মো. বাতেন উপপরিচালক, স্থানীয় সরকার, ফেনী
খুলনা স. ম. জামশেদ খোন্দকার একান্ত সচিব, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি)
কুষ্টিয়া মো. ইকবাল হোসেন পরিচালক, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)
ভোলা ডা. শামীম রহমান উপসচিব, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ
উপসংহার: প্রশাসনের মেরুদণ্ড রক্ষা করাই প্রধান চ্যালেঞ্জ
​একসময় সততা ও শৃঙ্খলার প্রতীক এই প্রশাসন আজ অর্থলোভের প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়েছে। দুর্নীতিতে 'বিশ্বচ্যাম্পিয়ন' হওয়ার পুরোনো গ্লানি থেকে বেরিয়ে আসার প্রচেষ্টার মধ্যে এই ধরনের অভিযোগ সত্যিই হতাশাজনক। রাষ্ট্রকে যদি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হয়, তবে এই 'নিলাম সংস্কৃতি' থামানো অপরিহার্য। এই নৈতিক দেউলিয়াত্ব বন্ধ না হলে উন্নয়নের ধারা নয়, দুর্নীতি-নির্ভর প্রশাসনই হবে দেশের নিয়তি।
​(সংবাদটি প্রশাসন বিশ্লেষক ও প্রশাসনিক মহলের গুঞ্জনভিত্তিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রস্তুত করা হয়েছে। সরকারি তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী, লেনদেনের অভিযোগের সত্যতা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত হয়নি।)


নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat