মামুন মিঞা, ফরিদপুর
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় পারিবারিক জমি বিরোধের জেরে সংঘটিত হামলায় এক গর্ভবতী নারীসহ একই পরিবারের চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে সদরপুর থানাধীন চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়নের জাকেরের ডাঙ্গী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন— শেখ ইউসুফ (৩৭), তার স্ত্রী রোকসানা আক্তার (৩০), মা ফতে বেগম (৬৫) ও বাবা শেখ জুলহাস (৭২)। আহতদের মধ্যে গর্ভবতী রোকসানা আক্তার ও ফতে বেগম বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী শেখ ইউসুফ জানান, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক জমি ও ঘর নির্মাণ নিয়ে আপন ভাই, প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি নিজ বাড়ির দরজা নির্মাণ করতে গেলে অভিযুক্তরা বাধা দেয় ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
অভিযোগে বলা হয়, ঘটনার দিন অভিযুক্ত টিটু শেখ, তারা মিয়া, শেখ মানোয়ার, পারভীন আক্তার, রোকেয়া বেগম ও দিদার শেখসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র—রামদা, লোহার রড, বাঁশের লাঠি নিয়ে বসতবাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তারা ইউসুফকে লোহার রড দিয়ে আঘাত করলে তার বাম পায়ের হাঁটু ভেঙে যায়। গর্ভবতী স্ত্রী রোকসানা আক্তারকে পেটে লাথি ও কিল-ঘুষি মারলে তিনি গুরুতর আহত হন।
এছাড়াও ইউসুফের মা ফতে বেগমের ডান হাত ভেঙে যায় এবং তার বাবা শেখ জুলহাসের কোমরের হাড় ভেঙে গুরুতর জখম হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বাবা জুলহাস বলেন,"আমার সন্তান দীর্ঘদিন যাবত আমরা(স্বামী-স্ত্রী)র কোনো খোঁজ খবর নেয় না,ভরণপোষণও দেয় না,অথচ আমার জমা-জমি নিয়ে টানাটানি করে।ও এবং ওর সাথে থাকা লোকজন আমাকে এবং ওর মাকে মারছে। আমি এর বিচার চাই"।
ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলাকারীরা ঘরে ঢুকে প্রায় ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার ও নগদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা লুট করে নেয় এবং নারী সদস্যদের শ্লীলতাহানি করে।
স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক ফতে বেগমকে ভর্তি করেন এবং গর্ভবতী রোকসানা আক্তারকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয় এবং চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় রোকসানার গর্ভপাত ঘটে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শেখ ইউসুফ সদরপুর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন। তিনি জানান, অভিযুক্তরা মামলা না করতে হুমকি দিচ্ছে এবং পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
এ বিষয়ে সদরপুর থানার পুলিশ জানায়, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।