দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের পাঁচ দিনব্যাপী যৌথ সামুদ্রিক সামরিক মহড়া শেষ হওয়ার একদিন পরই উত্তর কোরিয়া তার পূর্ব উপকূল থেকে সাগরের দিকে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ২০ মিনিটে উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূলীয় শহর ওনসান এলাকা থেকে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো উৎক্ষেপণ করা হয় বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ (জেসিএস)।
দক্ষিণ কোরিয়ার জেসিএস জানায়, ওনসান এলাকা থেকে উৎক্ষেপণ করা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রায় ২৫০ কিলোমিটার (১৫৫ মাইল) পথ অতিক্রম করে সাগরে গিয়ে পড়ে।
গোয়েন্দা পর্যবেক্ষণ ও বৈঠক: উৎক্ষেপণের পর দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সঙ্গে তথ্য বিনিময় শুরু করেছে এবং ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর সঠিক ধরন ও কারিগরি বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করছে। ঘটনাটির পরপরই দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের ন্যাশনাল সিকিউরিটি অফিস জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক আহ্বান করে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যায়ন: মার্কিন প্যাসিফিক কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই উৎক্ষেপণে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড বা তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি তৈরি হয়নি। তবে ওয়াশিংটন তাদের মিত্রদের নিরাপত্তার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের ত্রিপক্ষীয় সামরিক মহড়া শেষ হওয়ার পরপরই পিয়ংইয়ং এ প্রতিক্রিয়া দেখাল।
পিয়ংইয়ংয়ের হুঙ্কার: মহড়া শুরু হওয়ার পর গত সোমবার উত্তর কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী কিম সং-গি এই অনুশীলনের তীব্র সমালোচনা করে 'শক্তিশালী ও পাল্টা প্রতিক্রিয়ামূলক ব্যবস্থা' নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। পিয়ংইয়ং দীর্ঘদিন ধরেই এসব মহড়াকে উত্তর কোরিয়ায় আগ্রাসনের প্রস্তুতি হিসেবে বিবেচনা করে আসছে।
ট্রাম্পের কূটনৈতিক বার্তা: উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে নতুন করে বৈঠকের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগ্রহ প্রকাশ করলেও এবং মার্কিন-দক্ষিণ কোরিয়া যৌথ মহড়ার পরিসর কমানোর সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও পিয়ংইয়ং তাদের সামরিক সক্ষমতার প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছে।
সর্বশেষ এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনায় কোরীয় উপদ্বীপে পুনরায় সামরিক ও নিরাপত্তা উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।