×
  • প্রকাশিত : ২০২৬-১০-০৮
  • ৪২ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চট্টগ্রামের দুর্গম ও অতীতে সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সারদা পুলিশ একাডেমির আদলে একটি আধুনিক পুলিশ একাডেমি প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এছাড়া একই এলাকায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের জন্যও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জঙ্গল সলিমপুরের অবকাঠামো উন্নয়নসংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এসব তথ্য জানান।

জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশ একাডেমি ও কারাগার স্থানান্তর
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জঙ্গল সলিমপুরের বিশাল এলাকা জুড়ে থাকা সরকারি খাসজমি এবং পাহাড় শ্রেণির জমিগুলোকে সুশাসনের আওতায় নিয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের জন্য ইতোমধ্যে সেখানে ৭২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া ওই এলাকায় সড়ক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক উন্নত করতে ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের (ইসিবি) নেতৃত্বে বর্তমানে কাজ চলছে এবং আজকের সভায় সেই কাজের সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়েছে।
জঙ্গল সলিমপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ওই এলাকাকে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য থেকে মুক্ত করে একটি শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থায়ী ঘাঁটি
জঙ্গল সলিমপুরে অপরাধ নির্মূল এবং স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য বাহিনীর জন্যও স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সেখানে জায়গা বরাদ্দ নিয়ে স্থায়ীভাবে কাজ শুরু করতে যাচ্ছে—
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)
স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)
আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ওই এলাকায় অতীতে গড়ে ওঠা বিভিন্ন অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের উপযুক্ত উপায়ে কীভাবে পুনর্বাসন করা যায়, সে বিষয়েও সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পাশাপাশি, সেখানে বিদ্যমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য বৈধ প্রতিষ্ঠানগুলোকেও প্রশাসনিক পরিচালনার সুনির্দিষ্ট কাঠামোর আওতায় আনা হবে।

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা এলাকায় নতুন দুটি সেনাক্যাম্প
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আজ বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির দ্বিতীয় সভাও অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার সিদ্ধান্ত তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, কক্সবাজারের পাহাড়ি এলাকায় নিয়মিত সংঘটিত অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের মতো গুরুতর অপরাধগুলো কঠোর হাতে দমন করতে নোয়াখালীপাড়া এবং রঙ্গিখালিতে নতুন দুটি সেনাক্যাম্প স্থাপনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ক্যাম্প দুটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ ডিভিশনের সরাসরি অধীনে পরিচালিত হবে। সবার সুচিন্তিত পরামর্শের ভিত্তিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এর মাধ্যমে পাহাড়ি অঞ্চলের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পুলিশের জন-আস্থা ও চ্যালেঞ্জ
প্রেস ব্রিফিংয়ের শেষ পর্যায়ে দেশের একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত পুলিশের আইজিপির সাম্প্রতিক একটি সাক্ষাৎকারের বিষয়ে সাংবাদিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইজিপির বক্তব্য অনুযায়ী জনগণের আস্থা অর্জন ও তা বজায় রাখাই বর্তমান সরকারের পুলিশের জন্য সবচেয়ে বড় কাজ। তিনি আরও যোগ করেন, “জন-আস্থা আমরা অর্জন করেছি। জন-আস্থাটা কতটুকু অর্জন করতে পেরেছি, সেটার বিচার করবে জনগণ।” জন-আস্থা বহাল রাখা এবং তা আরও সুদৃঢ় করাকে বর্তমান সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলেও উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...
❮

❯
Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat