চট্টগ্রাম ব্যুরো:
চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদস্থ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) উদ্যোগে আয়োজিত 'জব অ্যান্ড ক্যারিয়ার ফেয়ার'-এর উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে অনুষ্ঠিত এ মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশের শিক্ষিত তরুণদের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে কাজ করছে সরকার।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিসিকের চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ বলেন, “ফ্যাসিস্ট আমলে দেশের চামড়া শিল্পের চরম অধঃপতন হয়েছে। এ শিল্পের সমস্যা সমাধানে অনেক সময় নষ্ট হয়েছে, কিন্তু সরকার আর সময় নষ্ট করতে চায় না; চামড়া শিল্পকে দ্রুত জাগিয়ে তুলতে চায়।”
তিনি আরও জানান, সারা দেশে বিসিকের ৮৪টি শিল্পনগরী রয়েছে, যেখানে উদ্যোক্তাদের শিল্পকারখানা গড়ার সব ধরনের সুব্যবস্থা করা হচ্ছে। বিসিক প্রশিক্ষণ প্রদানের পাশাপাশি নারীদের মাত্র ৫ শতাংশ এবং পুরুষদের ৬ শতাংশ সুদে ঋণের ব্যবস্থা করছে। ঢাকার চামড়া, প্লাস্টিক ও মুদ্রণ শিল্পকে স্থানান্তর করে বিসিকের আধুনিক শিল্প পার্কে নেওয়ার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিল্পায়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় কাঁচামালের যথাযথ ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, বেকারত্ব দূরীকরণে সরকারের ঘোষিত ১ কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ করছে বিসিক। তিনি বিগত সরকারের সময়ে চট্টগ্রাম নগরের অপপরিকল্পিত নগরায়ণ, যানজট, অনিয়ম ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার অবনতির কঠোর সমালোচনা করে বলেন, শহরকে বাসযোগ্য ও যানজটমুক্ত রাখতে যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে।
দ্য চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, পাবলিক ও প্রাইভেট সেক্টরের যৌথ প্রচেষ্টায় (পিপিপি মডেল) দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করতে হবে। প্রশিক্ষণ ও মেলার মতো উদ্যোগগুলোতে বিসিকের সাথে চিটাগাং চেম্বার সক্রিয়ভাবে কাজ করবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে উইমেন চেম্বারের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লুৎমিলা ফরিদ, বিসিকের পরিচালক (প্রশাসন) মুহম্মদ কামরুজ্জামান এবং বিসিক চট্টগ্রামের আঞ্চলিক পরিচালক খালেদ মাহমুদ বক্তব্য রাখেন। তারা উল্লেখ করেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিল্প খাতের মধ্যে যোগসূত্র তৈরি করে ‘স্কিল গ্যাপ’ দূর করতে এই ক্যারিয়ার ফেয়ার বিশেষ অবদান রাখবে।
মেলায় তরুণদের অনেকে বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানে তাৎক্ষণিক চাকরির নিয়োগপত্র পেয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন আয়োজকরা।