চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
অভিযোগে নাম উঠেছে বিতর্কিত ‘ভুয়া সাংবাদিক’ এস এম মিজান উল্লাহ সমল কান্তির; প্রশাসনের জড়িত থাকার গুঞ্জন
চট্টগ্রামের আকমল আলী ঘাটে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ডিমওয়ালা মা ইলিশ পাচারের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলা ও জিম্মির শিকার হয়েছেন পেশাদার সাংবাদিকরা। ইলিশ পাচার চক্রের মূলহোতা রহমান মাঝির লেলিয়ে দেওয়া ক্যাডার বাহিনী এবং স্থানীয় দুই বিতর্কিত কথিত সাংবাদিকের উসকানিতে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জাতীয় দৈনিক অভয়নগর-এর চট্টগ্রাম বিভাগীয় ব্যুরো চীফ তারেক হোসাইন ১৪ ই অক্টোবর ২০২৬ ইংরেজি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, গত ১২ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১১:০০ ঘটিকায় আকমল আলী ঘাট এলাকায় বস্তায় ভরে মা ইলিশ পাচার করা হচ্ছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের ৮-১০ জন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে যান। ভিডিও ধারণ ও তথ্য সংগ্রহের সময় রহমান মাঝির নির্দেশে তার অজ্ঞাতনামা ৮-১০ জন ক্যাডার সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং ক্যামেরা ভাঙচুরের চেষ্টা করে। এ সময় হামলাকারীরা চিৎকার করে বলতে থাকে— "প্রশাসন, কোস্ট গার্ড ও সাংবাদিক সবাইকে ম্যানেজ করা আছে।"
বিতর্কিত সাংবাদিকদের উসকানি ও জিম্মি করার চেষ্টা:
সংবাদ সংগ্রহের একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন চট্টগ্রামের বিতর্কিত কথিত সাংবাদিক মিজান সমল কান্তি। তারা সাংবাদিকদের সহায়তা না করে উল্টো রহমান মাঝির সন্ত্রাসী বাহিনীর সাথে আঁতাত করেন এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের খেপিয়ে তুলে ‘মব’ সৃষ্টি করেন। তাদের প্রত্যক্ষ মদদে সন্ত্রাসীরা সাংবাদিকদের একটি স্থানে অবরুদ্ধ করে বেঁধে রাখার চেষ্টা ও জিম্মি করে রাখে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, এই অবৈধ পাচার সিন্ডিকেটের পেছনে স্থানীয় প্রশাসন ও উক্ত কথিত সাংবাদিকদের যোগসাজশ রয়েছে।
মিজান সমল কান্তির বিতর্কিত অতীত:
অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্ত মিজান ও সমল কান্তি দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামে সাংবাদিকতার আড়ালে নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছে। এর আগেও তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্থানে কখনো ভ্রাম্যমাণ আদালতের ‘ম্যাজিস্ট্রেট’, আবার কখনো ‘সিনিয়র সাংবাদিক’ ভুয়া পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাঁদাবাজি করার অভিযোগ রয়েছে। চাঁদাবাজির একাধিক ঘটনায় তার ইতিপূর্বেও স্থানীয় জনতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে হাতেনাতে আটক হয়েছিল। পুনরায় ইলিশ পাচারকারীদের মদদ ও সাংবাদিকদের ওপর হামলায় তার নাম আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রামের কর্মরত সাংবাদিক সমাজ।
আইনি পদক্ষেপ ও প্রতিবাদ:
এ বিষয়ে দৈনিক অভয়নগরের বিভাগীয় ব্যুরো চীফ তারেক হোসাইন জানান, "পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় পড়েছি। ইলিশ পাচারকারী ও কথিত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সব তথ্যপ্রমাণসহ থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।"
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত রহমান মাঝি, তার ক্যাডার বাহিনী এবং উসকানিদাতা বিতর্কিত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বস্তুনিষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে
এ জাতীয় আরো খবর..