শাহিদুল ইসলাম, কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ
একটি সুস্থ ও সুশৃঙ্খল সমাজ ব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি হলো তার তরুণ প্রজন্ম। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, বর্তমান সমাজে আমাদের কিশোর ও যুবসমাজের একটি বড় অংশ এক অন্ধকার চোরাবালিতে হারিয়ে যাচ্ছে। যে বয়সে তাদের হাতে বই-খাতা কিংবা খেলার মাঠের ফুটবল থাকার কথা ছিল, আজ সেই বয়সে তাদের একাংশের হাতে শোভা পাচ্ছে ধারালো অস্ত্র আর বিষাক্ত মাদক। পাড়ার মোড়ে, অলিতে-গলিতে দলবদ্ধ আড্ডা, তুচ্ছ ঘটনায় প্রাণঘাতী সংঘর্ষ এবং অবাধে মাদক গ্রহণ আজ এক নিত্যদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। যাকে আমরা 'কিশোর গ্যাং' কালচার বলছি, তার মূল জ্বালানি হিসেবে কাজ করছে সর্বনাশা মাদক। এই দুইয়ের মেলবন্ধন আমাদের পুরো সামাজিক কাঠামোকে এক চরম নিরাপত্তাহীনতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
কিশোরদের এই বিপথগামী হওয়ার পেছনে গভীর সামাজিক ও পারিবারিক কারণ জড়িয়ে রয়েছে। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, পারিবারিক নজরদারির অভাব, নৈতিক শিক্ষার অবক্ষয়, সুস্থ বিনোদনের সংকট এবং রাজনৈতিক এক শ্রেণির তথাকথিত 'বড় ভাইদের' আশ্রয়-প্রশ্রয় কিশোর গ্যাং গড়ে ওঠার প্রধান কারণ। আর এই গ্যাংগুলোর আধিপত্য বিস্তার, মোটরসাইকেলের মহড়া ও নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার খরচ জোগাতে গিয়ে কিশোররা খুব সহজেই জড়িয়ে পড়ছে মাদক ব্যবসায়। মাদকের অর্থ জোগাতে এরা প্রথমে চুরি, ছিনতাই এবং পরবর্তীতে খুনের মতো জঘন্য অপরাধে লিপ্ত হতে দ্বিধা করছে না। কৌতূহল বা বন্ধুদের চাপে পড়ে যে কিশোরটি প্রথম দিন মাদক নেয়, কয়েকদিনের মাথায় সে-ই হয়ে ওঠে মাদক সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্য।
এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমাদের পারিবারিক ও সামাজিক নিরাপত্তা। একটি সন্তান বিপথগামী হলে বা মাদকের নেশায় বুঁদ হলে পুরো পরিবারের শান্তি চিরতরে উধাও হয়ে যায়। সমাজে প্রতিনিয়ত বাড়ছে অস্থিরতা, অনিরাপদ হয়ে উঠছে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক পথচলা। মেধাবী তরুণদের এক বিশাল অংশ আজ কর্মক্ষমতা ও মেধা হারিয়ে অপরাধ জগতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে, যা দেশের সামগ্রিক ভবিষ্যতের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। সমাজ ব্যবস্থা যদি এই তরুণদের সঠিক পথ দেখাতে না পারে, তবে এর দায় পুরো সমাজকেই নিতে হবে।
এ জাতীয় আরো খবর..