×
সদ্য প্রাপ্ত:
  • প্রকাশিত : ২০২৬-১০-১৮
  • ৩২ বার পঠিত
মোঃ মনিরুজ্জামান, স্টাফ রিপোর্টার:

রাজশাহীর চারঘাটে এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ভয়াবহ নিয়োগ বাণিজ্য, স্বাক্ষর জালিয়াতি ও উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত হলেন রায়পুর (দক্ষিণ) উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শামসুল ইসলাম। একের পর এক দুর্নীতির প্রমাণ মিললেও বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর যেন চোখে কালো কাপড় বেঁধে আছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, নিয়োগ বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় হট্টগোল হয়েছে বিদ্যালয়টিতে। প্রধান শিক্ষক ফাঁকা কাগজে প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আবুল খায়ের খন্দকারের স্বাক্ষর নিয়ে নিজের স্ত্রী শাহানারা খাতুনকে সহকারী সমাজবিজ্ঞান শিক্ষক এবং আপন চাচাতো ভাইয়ের স্ত্রী হাফিজা খাতুনকে ইসলাম ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।

এছাড়া স্বাক্ষর জালিয়াতি করে টাকার বিনিময়ে বাংলা শিক্ষক মো. মামুনুর রশিদ ও ইংরেজি শিক্ষক মো. আকতার হোসেনকে নিয়োগ দেন। কাগজে-কলমে মামুনুরকে ৫ আগস্ট ২০০১ এবং আকতারকে ১৫ আগস্ট ২০০৪ সালে নিয়োগ দেখানো হলেও, মামুনুরকে প্রকৃতপক্ষে ২০২৬ সালে নিয়োগ দেওয়া হয়।

দক্ষিণ রায়পুর গ্রামের রফিক ইসলামের কাছ থেকে ১ লাখ টাকা নিয়ে ৫ বছর ধরে বাংলা শিক্ষক হিসেবে খাটালেও স্থায়ী নিয়োগ দেননি। রফিক রাজশাহী কোর্টে ফৌজদারি মামলা করলে প্রধান শিক্ষক ৯ দিন কারাভোগ করেন। বর্তমানে তিনি জামিনে আছেন।

ময়না নামে এক নারী অভিযোগ করেন, আয়ার চাকরির জন্য ৫০ হাজার টাকা অগ্রিম নিয়েও আরও ৩ লাখ টাকা দাবি করেন প্রধান শিক্ষক। টাকা দিতে না পারায় লতা নামে অন্য নারীকে নিয়োগ দেন। একইভাবে আব্দুল্লাহর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে নাইটগার্ডের চাকরি দিয়ে ২০১৮ সালে অন্যজনকে স্থায়ী করেন।

বর্তমানে নিপেন নামে এক ব্যক্তিকে হিন্দুধর্ম শিক্ষক হিসেবে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার চুক্তিতে রেখেছেন। নিপেন নিজেই ৫০ হাজার টাকা অগ্রিম দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।

২০০৪ সালে ভুয়া ৮০ জন ছাত্রীর নামে দুই দফায় উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎ করেন তিনি। বর্তমানেও উপবৃত্তি বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিগত সরকারের আমলে আওয়ামী লীগ নেতা মো. মিলন সভাপতি থাকাকালে তার সাথে যোগসাজশে ব্যাকডেটে এসব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক শামসুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, তার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ মিথ্যা ও হয়রানিমূলক।

চারঘাট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার লায়লা আখতার জাহান ( অতিরিক্ত দায়িত্বে) জানায়,আদালতের নোটিশসহ লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...
❮

❯
Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat