জাতীয় ও রাজনীতি প্রতিবেদক:
ব্যাপক রাজনৈতিক ও সামাজিক সমালোচনার মুখে অবশেষে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন ইশরাক হোসেন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে শত শত নেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে তিনি এই চূড়ান্ত ঘোষণার কথা জানান।
প্রেসক্লাবে পৌঁছানো ও স্লোগান: নির্ধারিত সময় বেলা ২টার আধা ঘণ্টা আগেই (বেলা পৌনে ২টায়) কালো রঙের গাড়িতে চড়ে জাতীয় প্রেসক্লাবে পৌঁছান ইশরাক হোসেন। এ সময় শত শত নেতা-কর্মী তাঁকে ঘিরে ধরে 'ইশরাক ভাইয়ের ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই' এবং 'ইশরাক ভাই এগিয়ে চলো, আমরা আছি তোমার সাথে' ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।
ফেসবুক পোস্ট ও সুশীলদের প্রতি ক্ষোভ: এর আগে সকাল সাড়ে আটটার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে পদত্যাগের ইঙ্গিত দেন তিনি। পোস্টে সমালোচকদের উদ্দেশ্য করে তিনি লেখেন, “ফেসবুকে কিছু সুশীল মানুষকে উল্লাসসূচক লেখালেখি করতে দেখলাম। আশা করি, ভবিষ্যতে কখনো আন্দোলন-সংগ্রামের প্রয়োজন হলে তাঁরা জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিদেশ থেকে দেশে এসে সেই আন্দোলনে যোগ দেবেন।”
গেন্ডারিয়ার অস্ত্র প্রদর্শন বিতর্ক: গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকায় অনুসারীদের সাথে নিয়ে খোলা আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে এক মাদকবিরোধী অভিযানে নামেন ইশরাক। সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের হাতেও অস্ত্র দৃশ্যমান ছিল। এ সংক্রান্ত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সরকার ও বিএনপি দলের ভেতরে তীব্র অস্বস্তি ও অসন্তোষ তৈরি হয়।
প্রধানমন্ত্রীর সমন ও ইস্তফার নির্দেশ: উদ্ভূত পরিস্থতির প্রেক্ষাপটে রোববার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ইশরাক হোসেনকে ডেকে পাঠান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে সরাসরি মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন।