×
সদ্য প্রাপ্ত:
  • প্রকাশিত : ২০২৬-১০-২০
  • ৩২ বার পঠিত

জেলা ও প্রবাস প্রতিবেদক:

পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরাতে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন তরুণ নজরুল ইসলাম (২২)। কিন্তু বিদেশে যাওয়ার মাত্র ছয় মাসের মাথায় গ্রেফতারের পর তিন বছরেরও বেশি সময় কাটে কারাগারে। অবশেষে সেই স্বপ্ন ও জীবন শেষ হলো মৃত্যুদণ্ডের মাধ্যমে।

নিহত নজরুলের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের দরিদ্র কৃষক আব্দুল বাছিরের চার সন্তানের মধ্যে সবার বড়।

ঘটনার পটভূমি ও সাজা কার্যকর

  • সৌদি যাত্রা: পরিবারের দারিদ্র্য দূর করতে ২০২২ সালের ১০ নভেম্বর সৌদি আরবে যান নজরুল। সেখানে তিনি একটি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

  • গ্রেপ্তার ও কারাবাস: সেখানে যাওয়ার মাত্র ছয় মাসের মাথায় মক্কার একটি মসজিদে এক তরুণীর সঙ্গে অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে নজরুল ও সংশ্লিষ্ট তরুণীকে গ্রেফতার করে দেশটির পুলিশ।

  • মৃত্যুদণ্ড কার্যকর: তিন বছর তিন মাস কারাবাস শেষে গত ১৪ অক্টোবর (২০২৬) সৌদি আরবে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

শোকে স্তব্ধ পরিবার ও স্থানীয়দের শোক

নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর পুরো পরিবারে শোকের মাতম নেমে এসেছে। হঠাৎ এই দুঃসংবাদে বুধবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে নজরুলের ফুফু আবেদা বেগম মারা যান বলে জানান স্বজনরা।

  • বাবার আকুতি: নিহত নজরুলের বাবা আব্দুল বাছির বাকরুদ্ধ কণ্ঠে বলেন, "আমার ছেলে কী করেছে, আমি জানি না। একমাত্র আল্লাহই জানেন। আমি আমার ছেলের মরদেহ দেশের মাটিতে ফিরে পেতে চাই।"

  • মায়ের ক্ষোভ ও বেদনা: মা রহিমা বেগম জানান, নজরুল প্রতি রোববার কারাগার থেকে ফোন দিয়ে কথা বলতেন। কিন্তু তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কথা পরিবারের কাউকে পূর্বে জানানো হয়নি; গণমাধ্যমের সূত্রেই তারা বিষয়টি জানতে পারেন।

  • এলাকাবাসীর দাবি: স্থানীয় বাসিন্দা রাহাত ও মাইনুদ্দিন এই ঘটনার আকস্মিকতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অসহায় ও দরিদ্র এই পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এবং রাষ্ট্রীয় খরচে নজরুলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সৌদি সরকারের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছেন স্বজনরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...
❮

❯
Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat