বিশেষ প্রতিবেদকঃ
স্বাস্থ্যখাতকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর, কার্যকর ও জনকল্যাণমুখী করতে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনার পাশাপাশি শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের তাগিদ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি উল্লেখ করেন, বিদ্যমান সরকার ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে পুনর্গঠনের কাজ শুরু করেছে। চিকিৎসাসেবার অগ্রগতি নিরবচ্ছিন্ন রাখতে বিদ্যমান সংকটগুলো সঠিকভাবে শনাক্ত করে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান টানতে হবে।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সোসাইটি অব কোলন অ্যান্ড রেক্টাল সার্জনসের (বিএসসিআরএস) উদ্যোগে আয়োজিত ‘বিএসসিআরএস কংগ্রেস ২০২৬’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় দেশের সার্বিক স্বাস্থ্যসেবার উৎকর্ষ সাধন, চিকিৎসাব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং সাধারণ জনগণের দোড়গোড়ায় মানসম্পন্ন সেবা পৌঁছে দেওয়ার নানা দিক তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি।
স্বাস্থ্যখাতের অতীতের রুগ্ণ পরিস্থিতির প্রতি আলোকপাত করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিগত দিনগুলোতে ভুল নীতি, অপরিকল্পিত পদক্ষেপ ও অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে এ খাত কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি। এই অচলাবস্থা থেকে উত্তরণে স্বাস্থ্য খাতের মূল সীমাবদ্ধতাগুলো চিহ্নিত করে তা দূরীকরণে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে। এর পাশাপাশি চিকিৎসাব্যবস্থাকে নতুন রূপ দিতে দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা প্রণয়ন ও তার সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
স্বাস্থ্যখাতে রাষ্ট্রীয় অর্থায়নের যথাযথ ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান প্রশাসন স্বাস্থ্যখাতকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে বাজেট বরাদ্দ দিয়েছে। তবে কেবল সরকারি বরাদ্দ বৃদ্ধি করলেই প্রত্যাশিত ফল মিলবে না; বরং বরাদ্দকৃত অর্থের সর্বোচ্চ ও সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি তহবিল ব্যবহারের প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, উত্তরদায়ীত্ব ও আর্থিক নিয়মানুবর্তিতা বজায় রাখা আবশ্যিক। বরাদ্দের সুষম ও দুর্নীতিমুক্ত ব্যবহার সম্ভব হলেই কেবল সাধারণ মানুষ বিশ্বমানের চিকিৎসা পাবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, অর্থাভাবের কারণে দেশের কোনো নাগরিকে যেন জরুরি চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হতে না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। কারণ চিকিৎসা প্রতিটি মানুষের মৌলিক চাহিদার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে কেউ বিনা চিকিৎসায় দিন কাটাবেন কিংবা কষ্ট পাবেন, এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এ উদ্দেশ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি প্রান্তিক ও স্বল্প আয়ের মানুষের কাছে সেবার সুযোগ আরও সহজ করতে হবে।
দেশে বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবার মান ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন রাষ্ট্রপতি। উন্নত সেবার আসায় দেশবাসীকে যেন অহেতুক বিদেশমুখী হতে না হয়, সে লক্ষ্যে স্থানীয় হাসপাতাল ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোর গুণগত মান বাড়াতে হবে। এজন্য উন্নত চিকিৎসা পরিকাঠামো নির্মাণ, দক্ষ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী তৈরি এবং আধুনিক চিকিৎসাপ্রযুক্তির বিস্তার ঘটানো আবশ্যক। এসব উদ্যোগ বাস্তবে রূপ পেলে দেশের ভেতরেই মানুষ তুলনামূলক কম খরচে মানসম্মত চিকিৎসা নিতে পারবেন।
কোলন ও রেক্টাল সার্জারিসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত চিকিৎসাখাতে দক্ষ ও অভিজ্ঞ জনবল তৈরির ওপর তাগিদ দেন রাষ্ট্রপতি। তরুণ প্রজন্মের চিকিৎসক ও সার্জনদের ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে তিনি বলেন, তাঁদের অর্জিত জ্ঞান, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও পেশাগত দক্ষতা দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে বহুদূর এগিয়ে নেবে। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের সাম্প্রতিক অগ্রগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিজেদের দক্ষ করার পাশাপাশি রোগীদের মানবিক সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
উল্লেখ্য, ‘বিএসসিআরএস কংগ্রেস ২০২৬’-এর মতো উচ্চপর্যায়ের পেশাগত আয়োজন চিকিৎসকদের মধ্যে অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান আদান-প্রদানের চমৎকার ক্ষেত্র তৈরি করে। এই ধরনের সম্মেলনের মাধ্যমে আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতি, কোলন ও রেক্টাল সার্জারির সাম্প্রতিক উন্নয়ন এবং বিশেষায়িত সেবার নতুন দিক সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। যা প্রকারান্তরে চিকিৎসকদের কাজের দক্ষতা বাড়াতে এবং দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সুদৃঢ় করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।