×
সদ্য প্রাপ্ত:
  • প্রকাশিত : ২০২৬-১০-২৮
  • ৩৬ বার পঠিত
মোঃ অলি উদ্দিন মিলন, বিশেষ প্রতিনিধি:

​স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের গণমাধ্যম সমাজ পরিবর্তনে এবং গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে সময়ের বিবর্তনে এই মহৎ পেশার রূপ ও চরিত্রে এসেছে নানামুখী পরিবর্তন। বর্তমানে দেশের সাংবাদিকতা জগৎ কেবল পেশাদারত্বের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এর ভেতরে ও বাইরে তৈরি হয়েছে বিভিন্ন উপশ্রেণি বা ধারা। যার একদিকে যেমন রয়েছে সত্যনিষ্ঠ ও বহুমাত্রিক সাংবাদিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, অন্যদিকে তেমনি রয়েছে হলুদ সাংবাদিকতা ও অপপ্রচারের কালো ছায়া। সামগ্রিক মূল্যায়নে বাংলাদেশের সাংবাদিকতার চালচিত্রকে মূলত চারটি প্রধান ধারায় ভাগ করা যায়।

সাংবাদিকতার মূলনীতি হলো সত্য অনুসন্ধান ও জনস্বার্থ রক্ষা করা। অথচ একটি স্বার্থান্বেষী মহলের কারণে এই পেশাটি প্রায়ই প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্তরা হলেন:
​ভুয়া ও সাইনবোর্ড যাদের কোনো বৈধ প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি বা সম্পাদকীয় জবাবদিহিতা নেই, অথচ নামসর্বস্ব পোর্টাল বা পত্রিকার স্টিকার ও সাইনবোর্ড ব্যবহার করে দাপিয়ে বেড়ান।

​আইডিকার্ডসর্বস্ব কাজের বা অর্জনের চেয়ে গলায় কার্ড ঝুলিয়ে প্রভাব বিস্তার ও ফায়দা লুটাই যাদের মূল লক্ষ্য।
​অপসাংবাদিক ও দালাল সত্য গোপন করে বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাজ করা এদের কাজ।

​জনস্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে তথ্য গোপন বা প্রকাশ করার ভয় দেখিয়ে ফায়দা হাসিল করা।
সাংবাদিকতার অন্যতম শর্ত হলো নিরপেক্ষতা। কিন্তু দলীয় লেজুড়বৃত্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর দুর্বলতা এই পেশার স্বাধীনতাকে বহুলাংশে সংকুচিত করেছে:

কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা এবং সংবাদকে রাজনৈতিক চশমা দিয়ে দেখার প্রবণতা।
মাঠের সংবাদের চেয়ে নির্দিষ্ট ক্লাব বা সংগঠনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও সুযোগ-সুবিধা ভোগেই বেশি ব্যস্ত থাকা।
ও মেধা দিয়ে কাজ করেও ন্যায্য বেতন-ভাতা থেকে বঞ্চিত হওয়া এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে বারবার শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তার শিকার হওয়া দেশের সাংবাদিকতার অন্যতম বড় কাঠামোগত সংকট।

জাতীয় নির্বাচন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন বা বড় কোনো উৎসব-মেলাকে কেন্দ্র করে হঠাৎ করেই মাঠে আবির্ভূত হওয়া কিংবা মূল পেশার পাশাপাশি শখের বশে রিপোর্টিং করা।
তথ্যানুসন্ধানের চেয়ে মনগড়া অনুমান বা ঘটনাকে অতিরঞ্জিত গল্প বা উপন্যাসের আকারে উপস্থাপন করার প্রবণতা, যা পাঠকের মনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।

​এত সব নেতিবাচকতা ও সংকটের মাঝেও দেশের সাংবাদিকতা টিকে রয়েছে কিছু নীতিবান ও নিবেদিতপ্রাণ মানুষের কাঁধে ভর করে:
প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক এবং অনলাইন সব মাধ্যমেই সমানভাবে দক্ষ এবং সমসাময়িক বিষয়ে গভীর জ্ঞানসম্পন্ন পেশাদাররা।
সৎ, নির্ভীক, অনুসন্ধানী ও নীতিবান সাংবাদিক, যাঁদের সমাজ আজও সত্যের আলোকবর্তিকা হিসেবে প্রত্যাশা করে।

ধারা বা শ্রেণিমূল বৈশিষ্ট্যসমাজের ওপর এর প্রভাব
পেশাদার ও কাঙ্ক্ষিতসত্যনিষ্ঠ, নৈতিক ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনসমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করে, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে।
সুবিধাবাদী ও সাইনবোর্ড সর্বস্বকার্ড ও ক্ষমতার অপব্যবহারসাংবাদিকতার মহান পেশার মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে।
রাজনৈতিক বলয়দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নগণমাধ্যমের নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হয়।

অপসাংবাদিকতাচাঁদাবাজি, ব্ল্যাকমেইল ও মিথ্যাচারজনমনে বিভ্রান্তি ছড়ায় এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করে।
একটি সুস্থ, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে 'কাঙ্ক্ষিত' ও 'বহুমাত্রিক' সাংবাদিকদের গুরুত্ব অপরিসীম। অন্যদিকে ভুয়া ও দালাল সাংবাদিকতা এই পেশার ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে। এই সংকট উত্তরণে গণমাধ্যমের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, সাংবাদিকদের চাকুরির নিরাপত্তা ও ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা এবং হলুদ সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি। প্রকৃত সাংবাদিকদের সুরক্ষার মাধ্যমেই কেবল গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সুস্থ ধারার সাংবাদিকতা নিশ্চিত করা সম্ভব।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...
❮

❯
Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat