নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
চলতি ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এ বছর গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ।
বিগত ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় সামগ্রিক পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। অর্থাৎ বিগত বছরের তুলনায় এবার গড় পাসের হার ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
আজ শনিবার সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পরীক্ষার ফল প্রকাশের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। প্রধান অতিথি কর্তৃক ফল উন্মোচনের পরপরই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং অনলাইন পোর্টাল থেকে একযোগে ফল জানতে পারছেন।
প্রাথমিক সময়সূচি অনুযায়ী গত ২৯ অক্টোবর এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশের কথা থাকলেও পরবর্তীতে তা পুনর্নির্ধারণ করে শনিবার চূড়ান্ত করা হয়।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে পূর্বেই নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে যে, শিক্ষা বোর্ডগুলোর প্রকাশিত ফলাফল সংশ্লিষ্ট সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হবে। কেন্দ্র বা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ওয়েবসাইট থেকে ফল ডাউনলোড করতে 'রেজাল্ট কর্নার'-এ প্রবেশ করে নিজস্ব ইআইআইএন (EIIN) নম্বর ব্যবহার করতে হবে।
পরীক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ডসমূহের সমন্বিত সাধারণ ওয়েবসাইটের পাশাপাশি নিজ নিজ বোর্ডের অফিশিয়াল সাইট থেকেও ফল জানতে পারবেন। এছাড়া সরাসরি নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়েও ফল সংগ্রহের সুযোগ থাকছে।
অন্যদিকে খুদে বার্তার (SMS) মাধ্যমে ফলাফল পাওয়ার জন্য এবার নতুন নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। যেকোনো মোবাইল ফোন অপারেটর থেকে 16140 নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে ফল জানা যাবে। (যেমন- HSC Dha 123456 2026 লিখে পাঠাতে হবে 16140 নম্বরে)। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বোর্ড ভবন কিংবা কোনো সংবাদপত্রের কার্যালয়ে ব্যক্তিগতভাবে কোনো ফল দেওয়া হবে না।
ফলাফলে অসন্তুষ্ট পরীক্ষার্থীদের জন্য উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের আবেদন গ্রহণ করা হবে আগামী ১ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত। কেবল অনলাইনের মাধ্যমেই এই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে, যার বিস্তারিত দিকনির্দেশনা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছিল গত ২ জুলাই। এ বছর নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১২ লাখের বেশি, যদিও তাদের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন।