×
  • প্রকাশিত : ২০২৬-১০-৩১
  • ২১ বার পঠিত

শিক্ষা ডেস্কঃ

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে চরম বিপর্যয় ঘটেছে, যা বিগত ২২ বছরের ইতিহাসে সর্বনিম্ন পাসের হারের রেকর্ড গড়েছে। দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এ বছর সর্বমোট ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। একইসঙ্গে মেধার সর্বোচ্চ স্বীকৃতি জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও গত আট বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমে এসেছে।

আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার নেমে এসেছে ৫১ দশমিক ৬২ শতাংশে। বিগত বছর এই পাসের হার ছিল ৫৭ দশমিক ১২ শতাংশ।

বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) ঐতিহাসিক উপাত্ত পর্যবেক্ষণ করলে জানা যায়, এর আগে ২০০৪ সালে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে পাসের হার এর চেয়ে নিচে নেমেছিল; সে বছর পাসের হার ছিল ৪৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ। তবে পরের বছরই অর্থাৎ ২০০৫ সালে তা একলাফে বেড়ে ৫৯ দশমিক ১৬ শতাংশে পৌঁছায়। বিগত ২২ বছরের পরিসংখ্যানে পাসের হার আর কখনো এতটা নিম্নমুখী হতে দেখা যায়নি।

এ বছর নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন মোট ১০ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অকৃতকার্য হয়েছেন ৫ লাখ ৭ হাজার ২৮১ জন। এর বিপরীতে গত বছর এই ফেল করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৭৬ জন।

ব্যানবেইসে সংরক্ষিত ১৯৯০ সাল থেকে পরবর্তী সময়কালের ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর ইতিহাসে এবারই একবারে সর্বোচ্চসংখ্যক শিক্ষার্থী ফেল করেছেন।

অন্যদিকে, মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডসহ সর্বমোট ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এ বছর অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জনে। যেখানে গত বছর এই অকৃতকার্যের সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ৮ হাজার ৭০১ জন। সবকটি বোর্ড মিলিয়ে এ বছর গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশে, যা বিগত বছরে ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

অকৃতকার্যের পাশাপাশি সর্বোচ্চ ফল জিপিএ-৫ পাওয়ার চিত্রেও বড় ধরনের ধস নেমেছে। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ড থেকে মোট জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র ৪০ হাজার ৮৪ জন পরীক্ষার্থী। অথচ গত বছরও এই সংখ্যাটি ছিল ৬৯ হাজার ৯৭ জন। বিগত ২০১৯ সালে ৪৭ হাজার ২৮৬ জন এবং ২০১৮ সালে ২৯ হাজার ২৬২ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছিলেন। সেই হিসাবে গত ৮ বছরের রেকর্ড ভাঙা সর্বনিম্ন পর্যায়ে ঠেকেছে এবারের জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা।

আজ শনিবার সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফল প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

একই সময়ে অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের হতাশা দূর করতে বিশেষ বার্তা দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী জানান, অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের আগামী এক থেকে দুই মাসের ব্যবধানে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। এ বিষয়ে স্পষ্ট করে তিনি বলেন, একজন শিক্ষার্থী ঠিক যতটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন, তাঁকে কেবল ওই নির্দিষ্ট বিষয়গুলোর ওপরই পুনরায় পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়া হবে।

উক্ত ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার গিয়াস উদ্দিন রিমন, বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামানসহ সকল শিক্ষা বোর্ডের সম্মানিত চেয়ারম্যানবৃন্দ।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...
❮

❯
Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat