রাঙামাটি প্রতিনিধিঃ
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার অন্যতম প্রধান পর্যটন এলাকা সাজেকের কলাবুনিয়া অঞ্চলে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস-সন্তু লারমা দল) এবং প্রসীত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) সশস্ত্র কর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে।
আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরের দিকে ওই এলাকায় আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে এই গোলাগুলি শুরু হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে জানা গেছে, সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো নিহতের বা আহত হওয়ার সুনির্দিষ্ট খবর মেলেনি। তবে হঠাৎ করে শুরু হওয়া এই ভারী গোলাগুলির কারণে গোটা সাজেক এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, থেমে থেমে দুপক্ষের মধ্যবর্তী স্থানে গুলি বিনিময় অব্যাহত ছিল।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাঘাইছড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল মাবুদ জানান, স্থানীয় সূত্রের মাধ্যমে তাঁরা নিশ্চিত হয়েছেন যে, শনিবার দুপুর থেকে সাজেকের কলাবুনিয়া পাড়ায় নিজেদের শক্তির মহড়া ও আধিপত্য বজায় রাখতে পিসিজেএসএস এবং ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের মধ্যে দফায় দফায় বন্দুকযুদ্ধ চলছে।
উক্ত ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা চালানো হলেও তাঁদের তরফ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, সাজেক এলাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য ও মালামাল পরিবহনের সুবিধার কথা বিবেচনা করে আগামী রবিবার (১ নভেম্বর) সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মোট ১২ ঘণ্টার জন্য সাজেক সড়কের চলতি অবরোধ শিথিল করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
গতকাল শুক্রবার রাতে 'সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি'র আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা এবং 'সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন'-এর সভাপতি নতুন জয় চাকমার যৌথ স্বাক্ষরে গণমাধ্যমে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই স্বস্তিদায়ক তথ্য জানানো হয়।
তবে সোমবার থেকে পুনরায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি বহাল থাকবে বলে উক্ত বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা এক ভিডিও বার্তায় জানান, পাহাড়িদের ঐতিহ্যবাহী মাসব্যাপী ধর্মীয় উৎসব 'কঠিন চীবর দান' উপলক্ষে সম্মানিত বৌদ্ধ ভিক্ষুদের নির্বিঘ্নে যাতায়াতের জন্য সীমিত পরিসরে যানবাহন প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী পুণ্যার্থীরা যাতে কোনো বাধা ছাড়াই ধর্মীয় চীবর দানোৎসবে অংশগ্রহণ করতে পারেন, সেজন্য পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে এই বিশেষ ছাড় দেওয়া হচ্ছে। এ উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় উপাসনালয় বা বিহার পরিচালনা কমিটিকে আন্দোলনকারী সংগঠনগুলোর সঙ্গে অগ্রিম যোগাযোগ রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, তৃতীয় দফায় টানা নয় দিন ধরে চলা অবরোধ কর্মসূচির ৯ম দিন শেষে শুক্রবার রাতে কেবল একদিনের জন্য এই কর্মসূচি শিথিলের ঘোষণা দিল আন্দোলনকারী সংগঠন দুটি। দিনের পর দিন সাজেক সড়কে দীর্ঘ অবরোধের কারণে পুরো সাজেক অঞ্চলে খাদ্যপণ্যসহ নানাবিধ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। একইসঙ্গে সাজেকের সঙ্গে সারা দেশের স্বাভাবিক সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।