জয়,রাজশাহী ব্যুরো:
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাবরিনা শারমিনকে জড়িয়ে একটি মহল কর্তৃক "ভূমি খেকো, ভূমিদস্যুদের গডফাদার" আখ্যা দিয়ে যে মিথ্যা, বানোয়াট ও মানহানিকর সংবাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে, তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সচেতন মহল।
প্রকৃত ঘটনা হলো, শাহজাদপুর পৌর এলাকার একটি জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের দেওয়ানি বিরোধ চলমান রয়েছে। উক্ত জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকায় এবং এক পক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিষয়টি আইনগতভাবে জটিল আকার ধারণ করে। এ অবস্থায় পৌরসভার সার্ভেয়ার কর্তৃক জমি পরিমাপের বিষয়টি প্রচলিত বিধি-বিধান ও আদালতের নির্দেশনার আলোকে স্থগিত রাখা হয়। এটি কোনো ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, এটি একটি দাপ্তরিক প্রক্রিয়া।
একটি পক্ষ নিজেদের ক্রয়কৃত দাবি করে জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা করছে এবং প্রশাসনকে বিতর্কিত করার জন্য জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার নাম ভাঙিয়ে ইউএনও'র বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে।
এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়,জমির মালিকানা সংক্রান্ত বিষয়টি নিষ্পত্তির এখতিয়ার ইউএনও বা পৌরসভার নয়, এটি বিজ্ঞ আদালতের এখতিয়ার। আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় পরিমাপে বাধা দেওয়া বা স্থগিত রাখা আইনবহির্ভূত নয়।
ইউএনও সাবরিনা শারমিন একজন ৩৫তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের মেধাবী কর্মকর্তা। তিনি যোগদানের পর থেকে শাহজাদপুরে ভূমিদস্যু, অবৈধ দখলদার ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। এ কারণেই ভূমিদস্যু চক্র তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়ে পরিকল্পিতভাবে তাঁকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে।
বাসায় ডেকে নিয়ে হেনস্থা"র যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ইউএনও তাঁর বাসায় কোনো গুন্ডা-পান্ডা নিয়ে বসে ছিলেন না, বরং উভয় পক্ষকে ডেকে আইনগতভাবে সমাধানের পরামর্শ দিয়েছিলেন। এটাই একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার মানবিক উদ্যোগ।
. উচ্চ আদালত কর্তৃক নিম্ন আদালতের আদেশ খারিজ এবং ইউএনও'র লিখিত আপত্তি গ্রহণের নির্দেশই প্রমাণ করে ইউএনও কোনো আদালত অবমাননা করেননি। বিষয়টি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় তাঁকে "দুর্নীতিবাজ" বলা আদালত অবমাননার শামিল।
আমরা মনে করি, একজন নারী কর্মকর্তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে "গডফাদার" এর মতো অশালীন ও মানহানিকর শব্দ ব্যবহার করা সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থী।
স্থানীয়রা এই মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন, এবং এই ধরনের হলুদ সাংবাদিকতা বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সাথে ভূমি সংক্রান্ত বিরোধটি বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রশাসনের একজন সৎ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এহেন অপপ্রচার বন্ধ না হলে আমরা শাহজাদপুরের সর্বস্তরের জনগণকে সাথে নিয়ে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।
এ জাতীয় আরো খবর..