নিজস্ব প্রতিবেদক :
হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে বাউল গানের আসরে শিল্পী ও আয়োজকদের কিছু অপ্রাসঙ্গিক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে সচেতন মহলে। টাকার বান্ডিল খুলে ছড়িয়ে দেওয়া, অশ্লীল উক্তি, গানের মূল সুর ও ভাবধারা বিকৃত করে উত্তেজনাপূর্ণ ভঙ্গিতে পরিবেশনসহ নানা কর্মকাণ্ড বাউল গানের ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিক চেতনাকে ম্লান করছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।
বাউল গান বাংলার লোকসংস্কৃতির এক অনন্য ঐতিহ্য। মানবপ্রেম, আত্মতত্ত্ব, অসাম্প্রদায়িকতা ও মানবিক মূল্যবোধের বার্তা বহন করে আসছে এ সংগীতধারা। গ্রামবাংলার মানুষের জীবন, দর্শন ও আধ্যাত্মিক অনুভূতির সঙ্গে বাউল গানের রয়েছে গভীর সম্পর্ক। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু বাউল গানের আসরে প্রচলিত ঐতিহ্যবিরোধী কর্মকাণ্ডের কারণে এর প্রকৃত সৌন্দর্য ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সচেতন মহলের মতে, বাউল গানের আসরে অর্থের প্রদর্শনী, অশ্লীল বক্তব্য এবং গানের মূল ভাবধারা থেকে বিচ্যুত হয়ে পরিবেশনা শুধু সাংস্কৃতিক পরিবেশকেই নষ্ট করছে না, বরং দর্শক-শ্রোতাদের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে এসব আসরে শিশু-কিশোর ও তরুণদের উপস্থিতি থাকায় বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
তাঁরা মনে করেন, বাউল গানের নামে কোনো ধরনের অশ্লীলতা কিংবা অনৈতিক কর্মকাণ্ড যেন উৎসাহিত না হয়, সে বিষয়ে শিল্পী, আয়োজক ও সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা জরুরি। পাশাপাশি গানের আসর আয়োজনের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বাউল গানের প্রকৃত ঐতিহ্য ও ভাবধারা সংরক্ষণে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
এ পরিস্থিতিতে হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে বাউল গানের আসরগুলোতে শালীনতা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন নাগরিকরা। তাঁদের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় নজরদারি ও সচেতনতামূলক উদ্যোগের মাধ্যমে বাউল গানের ঐতিহ্য রক্ষা করা হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এ সংগীতধারার প্রকৃত সৌন্দর্য তুলে ধরা সম্ভব হবে।
এ জাতীয় আরো খবর..