ফাহাদ হাসান জিসান, নারায়ণগঞ্জ বন্দর প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলা ও এর আশেপাশের সর্বস্তরের মানুষের চিকিৎসাসেবার প্রধান আশ্রয়স্থল বন্দর উপজেলা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। সম্প্রতি হাসপাতালটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতির কারণে সেবার মানে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন এসেছে।
সহজ ও যাতায়াত সুবিধা :
হাসপাতালটি বন্দর উপজেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সহজ যোগাযোগ পয়েন্ট নবীগঞ্জ বাসস্টেশন হতে মাত্র ২০০ গজ দক্ষিণে, মদনপুর-মদনগঞ্জ সড়কের পূর্ব পার্শ্বে অবস্থিত। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মদনপুর কিংবা মদনগঞ্জ—উভয় দিক থেকেই প্রধান সড়ক ধরে খুব সহজে রোগীরা এখানে পৌঁছাতে পারেন। নবীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে নামার পর পায়ে হেঁটে কিংবা রিকশায় মাত্র কয়েক মিনিটে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে আসা যায়। এই চমৎকার ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে জরুরি ও দুর্ঘটনাকবলিত রোগীদের দ্রুততম সময়ে জরুরি সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
আধুনিক চিকিৎসাসেবা ও সুযোগ-সুবিধা:
হাসপাতালটিতে বর্তমানে আধুনিক ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে:
২৪ ঘণ্টা জরুরি বিভাগ: যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে সার্বক্ষণিক দক্ষ চিকিৎসক ও নার্সদের উপস্থিতি।
বিশেষজ্ঞ বহির্বিভাগ: প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সাশ্রয়ী সরকারি ফিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ।
উন্নত ল্যাব ও ইনডোর সেবা: ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে পুরুষ ও নারীদের জন্য পৃথক আধুনিক ওয়ার্ড এবং স্বল্প মূল্যে বিভিন্ন প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুব্যবস্থা।
বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ: সরকারি বরাদ্দকৃত প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র সরাসরি কাউন্টার থেকে রোগীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের মুখে প্রশংসা:
হাসপাতালে সেবা নিতে আসা স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগে চিকিৎসা নিতে যে ভোগান্তি হতো, বর্তমানে তা অনেকটাই দূর হয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসকদের আন্তরিকতা এবং পরিবেশের আমূল পরিবর্তনে সাধারণ মানুষ এখন বেশ স্বস্তি প্রকাশ করছেন। প্রত্যন্ত অঞ্চলের রোগীরাও এখন উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা বা মূল নারায়ণগঞ্জ শহরে না গিয়ে এই কমপ্লেক্সেই ভরসা পাচ্ছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সেবার এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং ভবিষ্যতে রোগীদের আরও উন্নত প্রযুক্তিগত ও লজিস্টিক সাপোর্ট দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
এ জাতীয় আরো খবর..