সাইফ হাসান লিমন, ফেনী প্রতিনিধি:
ফেনী জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ও ফেনী সদর উপজেলার ৮ নম্বর ধলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের বারবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান জাকির হোসেন জসিমের বিএনপি থেকে অব্যাহতি নেওয়ার ঘোষণাকে ঘিরে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন দলের দুঃসময়ে রাজপথে সক্রিয় থাকা এই নেতার অব্যাহতির ঘটনায় এখন আলোচনায় এসেছে—বিএনপিতে কি ত্যাগী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন হচ্ছে?
রোববার (২ নভেম্বর) স্থানীয় গণমাধ্যমের সামনে এসে জাকির হোসেন জসিম বিএনপি থেকে অব্যাহতি নেওয়ার ঘোষণা দেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁর বিরুদ্ধে বারবার অপপ্রচার চালানো হচ্ছে এবং মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এসব বিষয়কে কেন্দ্র করেই তিনি দল থেকে অব্যাহতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।
তৃণমূলের একাংশের মতে, বিগত সরকারের আমলে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও দলের পক্ষে সক্রিয় ছিলেন জসিম চেয়ারম্যান। দল যখন কঠিন সময় পার করছিল, তখন রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে তিনি মামলা ও হামলার শিকার হয়েছেন বলেও তাঁর সমর্থকদের দাবি।
তাঁর সমর্থকদের ভাষ্য, দলের দুর্দিনে যেসব নেতাকর্মী সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, সুসময়ে তাঁদের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা রাজনৈতিক সংগঠনের দায়িত্ব। কিন্তু দীর্ঘদিন দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করা একজন নেতার অব্যাহতির ঘোষণা তৃণমূলের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে এখন প্রশ্ন উঠছে, দলের দুঃসময়ে যাঁরা সাহস নিয়ে রাজপথে ছিলেন, তাঁদের রাজনৈতিক মূল্যায়ন কতটা হচ্ছে? দীর্ঘদিনের ত্যাগ, মামলা-হামলা ও আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রাখার পরও যদি একজন নেতাকে দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয়, তাহলে ভবিষ্যতে ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবস্থান কোথায় দাঁড়াবে?
তবে জাকির হোসেন জসিমের অব্যাহতির ঘোষণা এবং এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্যের পাশাপাশি বিএনপির সংশ্লিষ্ট নেতৃত্বের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ। এ ঘটনায় দলের আনুষ্ঠানিক অবস্থান ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট হবে।
জসিম চেয়ারম্যানের অব্যাহতির ঘোষণা শুধু একজন নেতার দলীয় অবস্থান পরিবর্তনের ঘটনা নয়; বরং এটি দলের সাংগঠনিক মূল্যায়ন, তৃণমূলের প্রত্যাশা এবং দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এ জাতীয় আরো খবর..