চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি:
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী আনসারবাড়ীয়া রেলওয়ে স্টেশন সংস্কারসহ তিন দফা দাবি আদায়ের আশ্বাসে দীর্ঘ তিন ঘণ্টা পর রেলপথ অবরোধ তুলে নিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আজ বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে এই অবরোধ প্রত্যাহার করা হলে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা রাজশাহীগামী আটকে থাকা ‘রূপসা এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি পুনরায় গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হয়। এর মাধ্যমে খুলনার সঙ্গে ঢাকাসহ সারা দেশের সরাসরি ট্রেন চলাচল আবার স্বাভাবিক হয়েছে।
এর আগে আজ বুধবার সকাল ১০টা ১৩ মিনিটে রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেনটির গতিপথ রোধ করে স্থানীয় বাসিন্দারা আনসারবাড়ীয়া স্টেশনে রেলপথ অবরোধ করেন। ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত চুয়াডাঙ্গা থেকে রেলওয়ের একটি প্রতিনিধি দল সেখানে পৌঁছে। পরবর্তীতে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি সরাসরি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। তাঁর সুনির্দিষ্ট আশ্বাসের ভিত্তিতেই স্থানীয়রা অবরোধ প্রত্যাহার করতে সম্মত হন। এদিকে দীর্ঘ সময় ট্রেন আটকে থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন হাজারও সাধারণ যাত্রী এবং অনেকেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
আন্দোলনকারী স্থানীয় বাসিন্দাদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—ঐতিহ্যবাহী আনসারবাড়ীয়া রেলওয়ে স্টেশনটি পূর্ণাঙ্গভাবে সচল করা, দুজন স্টেশনমাস্টারসহ পর্যাপ্ত লোকবল নিয়োগ প্রদান এবং স্টেশনের সামগ্রিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা। একই সঙ্গে আধুনিক প্ল্যাটফর্ম ও যাত্রীদের বিশ্রামাগার নির্মাণ এবং ঢাকা-খুলনা ও খুলনা-রাজশাহী রুটে চলাচলকারী আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর উভয়মুখী যাত্রায় আনসারবাড়ীয়া স্টেশনে স্থায়ী যাত্রাবিরতিরও জোর দাবি জানান তাঁরা।
অবরোধ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান খোকন, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসেন, আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আতিয়ার রহমান এবং ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির হারুন অর রশিদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
ঘটনার বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশনমাস্টার মিজানুর রহমান জানান, আনসারবাড়ীয়া স্টেশন চালুর দাবিতে স্থানীয়রা রূপসা এক্সপ্রেস আটকে রেখে বিক্ষোভ করায় খুলনার সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের ট্রেন যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়েছিল। ফলে বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে আসা শত শত যাত্রী স্টেশনে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষায় ছিলেন। এতে ট্রেন চলাচলের নিয়মিত সময়সূচিতে কিছুটা বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল।
জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি জানান, আন্দোলনকারীদের দাবির প্রেক্ষিতে আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যেই একজন স্টেশনমাস্টার নিয়োগ সুনিশ্চিত করা হবে। এ ছাড়া তাঁদের অন্যান্য বাকি দাবিগুলো নিয়ে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে সমাধানের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।