চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসে আদালতের ভুয়া রায় ও ডিক্রির নকল কপি দাখিল করে জমির রেকর্ড সংশোধনের অপচেষ্টা করায় মো. রফিকুল ইসলাম (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) শিবগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসে বিভিন্ন মামলার শুনানিকালে এ জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়ে। দণ্ডপ্রাপ্ত রফিকুল ইসলাম উপজেলার ধাইনগর ইউনিয়নের চৈতন্যপুর গ্রামের আখতার উদ্দিনের ছেলে।
ভূমি অফিস সূত্র জানায়, একটি বিবিধ মামলার শুনানিকালে বাদীপক্ষ আদালতের রায় ও ডিক্রির অজুহাত দেখিয়ে দেওয়ানি কার্যবিধির ১৪৩ ধারা অনুযায়ী জমির রেকর্ড সংশোধনের আবেদন করেন। তবে শুনানির সময় ওই কাগজপত্রের ফটোকপি পর্যালোচনা করতে গিয়ে কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। বিশেষ করে রায়ে থাকা বিচারকের স্বাক্ষর নকল বলে প্রতীয়মান হলে আবেদনকারী রফিকুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন যে, আদালতে দাখিল করা রায় ও ডিক্রির ওই কপিগুলো সঠিক নয়।
এদিকে মামলার বিবাদীপক্ষ আদালতের মূল ও প্রকৃত রায়ের কপি আদালতে উপস্থাপন করলে জালিয়াতির বিষয়টি সম্পূর্ণ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিবাদীদের দাখিল করা কাগজপত্রে দেখা যায়, আদালত মূল মামলায় বাদীর আবেদনটি আগেই ডিসচার্জ (খারিজ) করেছিলেন। কিন্তু বাদীপক্ষ আদালতের ওই রায় গোপন করে নিজেদের তৈরি একতরফা ভুয়া রায়ের কপি দিয়ে রেকর্ড সংশোধনের এই অভিনব জালিয়াতি করেছিলেন।
পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এবং দোষ স্বীকার করায় তাৎক্ষণিকভাবে শিবগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে সালমা রুমা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এ সময় দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ১৮৮ ধারার বিধান অনুযায়ী রফিকুল ইসলামকে ২০০ টাকা অর্থদণ্ড ও ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
এ বিষয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উম্মে সালমা রুমা বলেন, "ভূমি অফিসে কোনো ধরনের জাল বা নকল কাগজপত্র দাখিল করে নামজারি কিংবা বিবিধ মামলার মাধ্যমে রেকর্ড সংশোধনের চেষ্টা করা থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। সঠিক ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া কোনো আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে এবং আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এ জাতীয় আরো খবর..