×
  • প্রকাশিত : ২০২৫-০২-০৬
  • ২৫৬ বার পঠিত
আব্দুল মজিদ, ঠাকুরগাঁও:
দৈনিক পত্রিকার ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি মাসুদ বিপ্লব পেশায় একজন সাংবাদিক হলেও নেশা তার বাস্তব চিত্র কে ফ্রেমবন্দি করে কেনভাস, মৃৎ ,কাঠ ও সিমেন্ট শিল্পের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা ও সেসব তার নিজস্ব জাদুঘরে সংরক্ষণ করে রাখা তার সখ। নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলার ছেলে হলেও জম্ম সূত্রে ঠাকুরগাঁওয়ের বাসিন্দা। ঠাকুরগাঁও শহরের সরকার পাড়ায় নিরিবিলি পরিবেশে ছোট্ট পরিসরে গড়ে তুলেছে  এই জাদুঘরটি। তার পাশাপাশি গড়ে তুলেছেন একটি সুন্দর বইয়ের লাইব্রেরী। শিক্ষায় এলাকার মানুষ কে শিক্ষিত করে নিরক্ষর ঠাকুরগাঁও জেলা গড়ে তোলা তার জীবনের ব্রত। সকল কাজের ফাঁকে  সংগ্ৰহ করে চলেছেন নানান রকমের বই। শুধু মাত্র নিজের একক প্রচেষ্টায় কারো সাহায্য সহযোগিতা ছাড়াই তিলে তিলে গড়ে তুলেছেন এই সব প্রতিষ্ঠান। জীবনের সকল সুখ স্বাচ্ছন্দ্য ও বিলাসিতা কে বাদ দিয়ে ভাবনা শুধু কর্ম বাস্তবায়নের, কথা ভাবেন কবে হবে বড় পরিসরে তার স্বপ্ন। সমাজের কিছু মানুষের তুচ্ছতাচ্ছিল্য মনোভাব, মানুষিক শারীরিক ভাবে হেও প্রতিপন্নতা তার কাছে বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। দৃঢ়তার সাথে এগিয়ে যাচ্ছে তার স্বপ্নকে। পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া সামান্য সম্পত্তি আজ তাকে বড় স্বপ্ন দেখাচ্ছে। সমাজ ও পরিবারের সদস্যদের কারও এ ব্যাপারে সহযোগিতা না পেলেও ক্ষোভ নেই। তার ভাষায় একক প্রচেষ্টায় যখন সফলতা আসে এর আনন্দটাই অন্যরকম। ভাবুক মনে, মনে হয় সূপ্রভাত সৌরজগত।আর কবিতার ভাষায়,বৃহৎ আমি তাদের মধ্যে রয়েছি, তা আমাদের আত্ত্ব দ্রস্টা আমি এই মুক্ত স্বাধীন ও মৃত্যুঞ্জয়ী। সংগঠক হিসেবে জেলাতে তার বেশ নাম রয়েছে, ১৯৮৭-৮৮ সালে জেলা ক্রিকেট লীগে সেরা বোলার হিসেবে পূরস্কৃত হন। তার নিজের প্রচেষ্টায় তৈরি করা ক্লাব পৌর তরুণ প্রতিরক্ষা সংঘ জেলা ক্রীড়া সংস্থার সকল প্রকার খেলাসহ বিজ্ঞান প্রযুক্তি মেলা, আর্ট ও কারুকলায় সহ বিভিন্ন বিষয়ে অংশগ্রহণ করতো। হঠাৎ করে বিভিন্ন জায়গায় থেকে  তার ক্লাবের নাম বাদ দেয়া হয়।যার কারন এখনো অন্তরালে। সাংবাদিকতা, সংগঠন পরিচালনা, খেলাধুলা, সমাজসেবার পাশাপাশি শিল্পকর্ম সৃষ্টি, বইপড়া, কৃষ্টি সংগ্ৰহ তার অদম্য বাসনা বা নেশা। সাংবাদিক ও শিল্পী মাসুদ বিপ্লবের নানা অজানা কথা নান্দনিকতায় ভরা শৈল্পিক স্পর্শকতার সৃষ্টির সম্মুখে দাঁড়ালে যে কেউ রোমাঞ্চকর জগতে না গিয়ে পারবেনা। তার চিন্তায় বাঙালিরা ভারতবর্ষের সেরা জাতি। উদ্ভাবনী শক্তি ও বিচক্ষণতার দিক দিয়ে শক্তি সঞ্চার মূল লক্ষ্য নিয়ে মাসুদ বিপ্লব ছোট বেলা থেকেই লেখাপড়ার ফাঁকে শিল্পচর্চা ও সংগ্ৰহশালার কাজ করে আসছেন। গাছের প্রতি মাসুদ বিপ্লবের আরেক ভালোবাসা। গাছ কলম করা, পরিচর্যাসহ গাছ লাগানো তার আরেক শখ। নিজের বাড়ি না থাকলেও অন্যের বাড়িতে সে ফুল ও ফলের বাগান তৈরি করেছেন যা ক্ষণস্থায়ী। কি রয়েছে জাদুঘরে , দেশের নানাপ্রান্তের দৈনিক ,সাপ্তাহিক ও মাসিক পত্রিকা, ভাস্কর্য, চারুকলা,  প্রাচীন মূদ্র্যা , টাকা, ডাকটিকিট, মুক্তি যোদ্ধার ছবি, মানুষের ব্যাবহারিক জিনিস পত্রসহ  নানান রকমের আয়োজন।২০১৪ সালে বাংলাদেশের শিল্পকলা একাডেমী আয়োজিত দেশের তৃতীয় ভাস্কর্য প্রদর্শনীতে ও ২০১৫ সালে ২১তম জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ সহ ভারতের অনলাইন চারুকলা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ ও পুরস্কৃত হন।তবে দেশের জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণকৃত শিল্পকর্ম ফেরত না দেওয়ায় আর কোন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ থেকে বিরত রয়েছেন তিনি। যে সব ক্ষেত্রে মাসুদ বিপ্লব তার শিল্পকর্ম প্রদর্শিত করে প্রশংসিত হয়েছে তা হলো ১৯৮৭ সালে নিজের জেলায় প্রথম একক চারু কারু কলা প্রদর্শনী। ১৯৯৩ সালে দিনাজপুর জেলায় দেশের সুনামধন্য শিল্পীদের সাথে চিত্র ও ভাস্কর্য প্রদর্শনী। ফ্রান্সের কনফিনি পত্রিকায় পঞ্চম ও অষ্টম সংখ্যায়  ছবি , সংবাদ বের হয়, তাছাড়া ভলিয়ম নাইন মেইল আর্ট` নামের একটি বই আমেরিকা থেকে একটি দাতব্য সংস্থা প্রকাশ করে। শতাধিক ভাস্কর্য ও হাজার খানেক চিত্রকর্ম এঁকেছেন তিনি। এ বিষয়ে তার কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। তার কর্মকান্ডের মাধ্যমে যে কথা তুলে আনতে চান তা হলো,আজ প্রাণ খুলে বলতে চাই , আমরা বাঁচার মতো বেঁচে থাকবো। জীবন কে স্বার্থক করবো, সুন্দর করবো, উপভোগ 
করবো,আনন্দরসে অভিষিক্ত করবো। আমরা প্রতিভার জম্ম দিবো।জগতে ধন্য বরেণ্য হবো, শিল্পকর্ম দিয়ে সুবিধাবাদীদের সাথে জ্ঞান ও সৃষ্টি দ্বারা সংঘাত করবো এবং সুন্দর বাংলাদেশ গড়বো।       

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...
❮

❯
Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat