মানিকগঞ্জ জেলায় ৪৬০ কিলোমিটার নদী থাকলেও বৈষম্যের কারণে আনুপাতিক হারে নতুন প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে অন্যান্য জেলার তুলনায় মানিকগঞ্জে বিগত ১৭ বছরের নদীপথকে ঘিরে যে উন্নয়ন করার কথা ছিল যার একশ ভাগের দুই ভাগও কাজ অর্জিত হয়নি।
আগামীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডে কোনো বৈষম্য থাকবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের মানিকগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আক্তারুজ্জামান।
সোমবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক গণশুনানি অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। নিজ দফতরে তিনিসহ কোনো কর্মকর্তা কর্মচারী যদি কোনো দুর্নীতি কিংবা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকেন তাহলে দেশের প্রচলিত আইনবিধির মাধ্যমে প্রশাসনকে অবহিত করবেন। সবকাজই আগামী স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে করার অঙ্গিকার করেন তিনি। গণশুনানীতে জেলার সাতটি উপজেলার নদী তীরবর্তী বিভিন্ন শ্রেণির ভুক্তভোগী অংশীজন অংশ নেন।
গণশুনানিতে জানানো হয় পদ্মা, যমুনা নদীসহ জেলা অভ্যন্তরীণ নদীগুলোর ভাঙন ঠেকাতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ, পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পৃথক আটটি ঘাট নির্মাণ ও ২ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ কাজ, সিসি ব্লক এবং জিও ব্যাগ দ্বারা ঝুঁকিপূর্ণ স্থানসমূহ শক্তিশালীকরণ ও ৪১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য খাল পুনঃখনন করা হবে।
এ সময় গণশুনানি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন- মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) রিক্তা আক্তার, পাওয়ার গ্রীড বাংলাদেশের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকৌশলী দেওয়ান গিয়াস মাহমুদ, পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি ইন্সপেক্টর (প্রশাসন ও অর্থ) মো. জাকির হোসেন, মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের আহবায়ক জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস, দৈনিক যুগান্তরের স্টাফ রিপোর্টার মতিউর রহমান প্রমুখ।
সেইসঙ্গে তিনি নদী তীরবর্তী এলাকায় সরকারি কোনো স্থাপনা কিংবা রাস্তাঘাট না করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, নদী পাড়ে লাখ টাকা ব্যয়ে সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান করলে সেটি রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড সেটি রক্ষায় আবার ব্যয় করতে হতে পারে কোটি টাকা! সে বিষয় গুলো মাথায় রেখে আগামীতে এরকম প্রকল্প পরিহার করে টেকসই প্রকল্প নেওয়ার আহ্বান করেছেন সরকারি সংশ্লিষ্ট দফতরসমূহকে।