মাসুদ রানা, সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারী) বিকাল থেকে উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তা বাস স্ট্যান্ড এলাকায় এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা শুরু করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা রহমান। উচ্ছেদ অভিযান চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারী) সকাল থেকে আবারও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুই পাশে উচ্ছেদ অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। এ সময় অভিযানের নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মঞ্জুর মোর্শেদ, সোনারগাঁও থানা পুলিশ, কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশ, আনসার সদস্যসহ উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মচারী, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।
উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুই পাশে সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের জায়গা দখল করে তিনটি কাঁচা বাজারসহ কমপক্ষে দুই হাজারের অধিক অবৈধ দোকানপাট গড়ে তুলে স্থানীয় প্রভাবশালীমহলের প্রতিমাসে কোটি কোটি টাকা চাঁদাবাজী করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। আর স্থানীয় প্রভাবশালীদের সাথে গোপন আঁতাতে মাসোয়ারা পেয়ে থাকেন সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর এবং হাইওয়ে পুলিশের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী।
এদিকে অবৈধ উচ্ছেদ অভিযানে সরেজমিনে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানায়, থানা পুলিশ বা হাইওয়ে পুলিশের নতুন কর্মকর্তারা সোনারগাঁওয়ে যোগদান করলে কিছুদিন পর পর অবৈধ দোকানপাটে উচ্ছেদ অভিযান চালায়। ফলে বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুই দিনে মহাসড়কের কমপক্ষে উভয় পাশে তিনশতাধিক দোকান উচ্ছেদ করা হয়।
তারা জানান, উপজেলা প্রশাসন একদিকে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে যান, অপরদিকে প্রভাবশালীরা আগের চেয়ে বেশি দামে দোকান দিতে উঠে-পড়ে নামেন। কোন জায়গায় আগে ব্যবসা করা ব্যবসায়ী তাদের চাহিদানুযায়ী টাকা দিতে না পারলে অন্যব্যক্তিদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে জায়গা দিয়ে থাকেন।
ব্যবসায়ীরা জানান, জায়গার অগ্রিম বাবদ কমপক্ষে দুই লাখ টাকা থেকে ১০ লাখ টাকা আর দৈনিক কমপক্ষে ১০০ টাকা থেকে ১২শ টাকা ভাড়া বাবদ আদায় করা হয়। ব্যবসায়ীদের দাবি, কিছুদিন পরপর লোক দেখানো উচ্ছেদ অভিযান না করে মহাসড়কে যানবাহন নির্ভিঘ্নে চলাচল ও ব্যবসায়ীদের জন্য স্থায়ীভাবে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা রহমান বলেন, আমি এর আগেও এখানে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছি। উচ্ছেদের পর নতুন করে বসতে টাকা নেওয়ার বিষয়টি আমার জানা ছিলনা, আপনাদের কাছ থেকেই শুনেছি। যদি এমন ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেব। তিনি আরো বলেন, যারা ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ী তাদের জন্য স্থায়ীভাবে কিছু করার চিন্তাভাবনা চলছে।