- প্রকাশিত : ২০২৫-০২-২৩
- ৯৬ বার পঠিত
কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি:
গাজীপুরের কালীগঞ্জে সূর্যমুখী ফুলের একটি বাগান দেখতে দর্শনার্থীদের গুনতে হচ্ছে ৩০ টাকা। শুরুতে প্রবেশ মূল্য ২০ টাকা থাকলেও প্রতিদিন লোক সমাগম বেশি হওয়ায় বাড়িয়ে প্রবেশ মূল্য করা হয় ৩০ টাকা। কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন টিকেট দিয়ে বাগানে আনলিমিটেড সৌন্দর্য উপভোগ করা গেলেও এতে বাগানের ক্ষতি বেশি হচ্ছে। কারণ তৈল জাতীয় ফসল হিসেবে সূর্যমুখীর চাষ করা। সূর্যমুখীর তেলে কোলেসটোলের কম থাকে এবং এটি স্বাস্থের জন্য ভাল হলেও ইদানিং বানিজ্যিক এ ফসলটিকে অতিরিক্ত বানিজ্যের আশায় মূল লক্ষ্য থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।
জানা গেছে, কালীগঞ্জ উপজেলার মোক্তারপুর ইউনিয়নের সাওরাইদ গ্রামে একটি সূর্যমুখী ফুলের বাগান। বাগানের পাশেই বড় করে একটি সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে ‘অনুমতি ছাড়া প্রবেশ নিষেধ, প্রবেশমূল্য ৩০ টাকা’। প্রবেশমুখের অপর একটি সাইনবোর্ডে লিখা রয়েছে ‘ফুল ছিঁড়লে জরিমানা ২০০ টাকা, ও গাছ ভাগলে জরিমানা ২০০ টাকা’। সাওরাইদ গ্রামে সূর্যমূখী অন্তভুর্তির মাধ্যমে প্রচলিত দ্বি-ফসলী শস্য বিন্যাসকে তিন শস্য বিন্যাসে উন্নয়নের লক্ষে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) রাইস ফামিং সিস্টেমস বিভাগ একটি প্রকল্প হাতে নেয়। রবি ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে ওই গ্রামের ১২ জন সহযোগী কৃষককে নিয়ে ৬ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করা হয়। কৃষকরা বিনামূল্যে বারি সূর্যমুখী-৩ জাতের বীজ ও রাসায়নিক সার সরবরাহ করা হয়।
বাগানে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাগানের ছবি দেখে জেলার আশপাশের লোকজন সূর্যমুখী বাগানে ছুটে এসেছেন এবং ফুলের অপরূপ সৌন্দর্যে বিমোহিত, আপ্লুত হচ্ছেন তারা।
বাগান তত্ত¡াবধায়করা জানান, সূর্যমূখী বাগানে প্রবেশে জনপ্রতি ৩০ টাকা নেওয়া নির্ধারিত থাকলেও সময়ের ব্যাপারে কোন নির্ধারিত সময় দেওয়া নেই। লোকজনকে সামাল দিতে প্রতিদিন চার থেকে সাতজন লোক এখানে নিয়মিত সময় দিচ্ছেন। সকাল ৮টা থেকে চলে বিকাল ৬টা পর্যন্ত।
কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ ফারজানা তাসলিম বলেন, তৈল জাতীয় ফসলের আশায় সূর্যমুখীর বাগান করলে সেখানে দর্শনার্থীদের প্রবেশ উন্মুক্ত করা উচিত নয়। এতে দর্শনার্থীদের পদচারণায় বাগানের মাটি শক্ত হয়। আর তাতে গাছ ঠিক মত নিউটেশন নিতে পারেনা এবং ফুলটাও বড় হয় না।
নিউজটি শেয়ার করুন
এ জাতীয় আরো খবর..