কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের ধনারচর গ্রামে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হাতকড়াসহ পালিয়ে গেছে এক আসামি। সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় আহত হন পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আউয়াল হোসেন, যাকে রৌমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
পালিয়ে যাওয়া আসামির নাম শাহনেওয়াজ আবির রাজু (৩১)। তিনি যাদুরচর ইউনিয়নের কাশিয়াবাড়ি গ্রামের আলী আজগরের ছেলে। তার বিরুদ্ধে স্থানীয় এক প্রতিবন্ধী স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও মাদক কারবারের অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ওই স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে রাজুর বিরুদ্ধে। এরপর গ্রামবাসীর চাপের মুখে সে পরিবারসহ নিজ গ্রাম ছেড়ে ধনারচর গ্রামে তার খালার বাড়িতে আশ্রয় নেয়। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ রাজুকে গ্রেফতার করতে অভিযান চালায়।
সোমবার রাতে এসআই আউয়াল হোসেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি পুলিশ দল ধনারচর গ্রামে অভিযান চালায়। পুলিশ রাজুকে আটক করে হাতকড়া পরিয়ে ফেলে। এ সময় রাজু, তার মা আবেদা আক্তার রাজিয়া (৪৮) ও খালাতো বোন রুনা আক্তার (২৩) পুলিশের ওপর হামলা চালায়।
হামলাকারীরা এসআই আউয়ালের হাতে কামড় দেয় এবং শরীরে আঘাত করে। এ সুযোগে হাতকড়াসহ পালিয়ে যায় রাজু।
ঘটনার পর অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত এসআই আউয়ালকে উদ্ধার করে। পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে রাজুর মা আবেদা আক্তার রাজিয়া এবং খালাতো বোন রুনা আক্তারকে আটক করা হয়। এছাড়া ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি দেশি রামদা উদ্ধার করে পুলিশ।
রৌমারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পলাতক রাজুকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে।
রৌমারী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নন্দ লাল চৌধুরী বলেন, "রাজুর বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা রয়েছে। এছাড়া পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধাদানের অভিযোগে আরও একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন।"
এদিকে, রৌমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, আহত এসআই আউয়ালের অবস্থা গুরুতর নয় এবং তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক আসামিকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ জাতীয় আরো খবর..