রিয়ানা আমিন:
সামান্য বৃষ্টি হলেই নারায়ণগঞ্জে সড়কে পানি জমে সৃষ্টি হয় চরম ভোগান্তির। বৃষ্টির পানির সাথে ড্রেনের ময়লা পানি মিশে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। গত শনিবার(০১ নভেম্বর) এক দিনের বৃষ্টিতে নগরীর এই চিত্রই দেখা গিয়েছে।নগরীর মাসদাইর, গলাচিপা, কলেজ রোড, আমলাপাড়া, কালির বাজার, উকিলপাড়া, নন্দীপাড়া, ডন চেম্বার, টানবাজার, মীনা বাজার, নিতাইগঞ্জ, দেওভোগ, ভূইয়ারবাগ, শিবু মার্কেটসহ বেশ কিছু এলাকার অলিগলিতে এখনো গত রাতের ভারী বর্ষণের পানি জমে আছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এই জলাবদ্ধতার কারণে তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে নিচু এলাকার বাসা-বাড়ি ও দোকানপাটে পানি ঢুকে পড়ায় ভোগান্তি চরমে। এতে করে ভোগান্তিতে পড়ছে চাকরিজীবী, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণির পেশার মানুষ। এছাড়াও নগরীর বিভিন্ন চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আসতেও চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগী ও তার স্বজনরা। অনেককে বাধ্য হয়ে নোংরা পানিতে হেঁটেই গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে। সেই সঙ্গে জলাবদ্ধতার কারণে বৃদ্ধি পাচ্ছে ডেঙ্গু সংক্রমণ।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে জানা গেছে, নগরীর ফুটপাতের পাশে থাকা ড্রেনগুলো দোকানদারদের ফেলা পলিথিন ও আবর্জনার কারণে প্রায়ই বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে পানি সরতে পারে না। আবার শহরের প্রায় ৯০ কিলোমিটার খালের মধ্যে ১৭ কিলোমিটারই দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানিপ্রবাহের স্বাভাবিক ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোঃ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, ইতিমধ্যে জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়া খাল উদ্ধারে অভিযান শুরু করেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির প্রতিবেদনে উঠে আসে, নারায়ণগঞ্জের মোট ৯২ কিলোমিটার খালের মধ্যে প্রায় ১৭ কিলোমিটার খাল দখল ও ভরাট হয়ে পানি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সেই প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পর প্রকল্প অনুমোদন পায়। বর্তমানে ৫৬টি পয়েন্টে খাল পরিষ্কার ও দখলমুক্ত করার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।