এমদাদুল হক, স্টাফ রিপোর্টার, জামালপুর :
শনিবার (৮ নভেম্বর) বেলা ১১টায় অপরাজেয় বাংলাদেশ, জামালপুরের অফিস ও “স্নেহা” নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্র পরিদর্শন করেন জামালপুর জেলার মান্যবর পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, বিপিএম-সেবা।
আলোচনা সভার শুরুতে “স্নেহা” নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রের শিশুরা ফুল দিয়ে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিদের বরণ করে নেয়। পরে তারা মনোমুগ্ধকর নাচ, গান ও নাট্য পরিবেশনা উপস্থাপন করে। শিশুদের প্রতিভা, সরলতা ও উচ্ছ্বাসে পুলিশ সুপার গভীরভাবে মুগ্ধ হন।
পরিদর্শন শেষে পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বলেন,“যারা ছিন্নমূল শিশুদের প্রতিপালন ও যত্নের দায়িত্ব নিয়েছেন, তাদের সবাইকে ব্যক্তি ও জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। মানুষ এই কাজটি আর্থিক বা সামাজিক লাভের আশায় করে না—বরং করে মানসিক তৃপ্তি ও আত্মিক শান্তির জন্য। এই বাচ্চারা জীবনকে যেভাবে এগিয়ে নিচ্ছে, তাদের স্যালুট জানাই। সমাজের বিত্তবানদেরও এই মানবিক কাজে সম্পৃক্ত হতে হবে, তবেই মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।”
তিনি আরও বলেন,“আমরা আইনগত সহায়তা দিতে প্রস্তুত। যতদিন এই জেলায় কর্মরত থাকব, ততদিন এই সুন্দর ও মানবিক উদ্যোগের পাশে থাকব। ছিন্নমূল শিশু-কিশোরদের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার এই প্রচেষ্টা সত্যিই প্রশংসনীয়। জেলা পুলিশ এই মহৎ উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানায়।”
অপরাজেয় বাংলাদেশ পরিচালিত ‘স্নেহা’ নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রটি শিশুদের যৌন হয়রানি, সহিংসতা ও পাচার প্রতিরোধে কাজ করছে। পাশাপাশি শিশুদের সুরক্ষা, শিক্ষা ও পুনর্বাসনের লক্ষ্যে নানামুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি। শিশুদের অধিকার রক্ষা ও একটি নিরাপদ সমাজ গঠনে অপরাজেয় বাংলাদেশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
পরিদর্শনকালে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাসিল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ইঞ্জিনিয়ার মোঃ নুরুল ইসলাম, মনোয়ারা ইসলাম, এবং সূর্য তোরণ সমাজসেবা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ও গণমাধ্যমকর্মী মোঃ খোরশেদ আলম।
এ সময় অপরাজেয় বাংলাদেশ, জামালপুরের সেন্টার ম্যানেজার মোঃ আশরাফুল ইসলাম অতিথিদের স্নেহা কেন্দ্রের বিভিন্ন কার্যক্রম ও শিশুদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেন।
অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সমাজকর্মী আব্দুল মোতালেব বাদল, আফিয়া আফসানা প্রমুখ।