চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ শিপ হ্যান্ডলিং অ্যান্ড বার্থ অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন (বিএসবিওএ)-এর ২০২৫-২০২৬ ও ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও পরিচালক পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব অভিযোগ তুলে ধরে স্বচ্ছ নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন।
ওশেন এইড সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ.এইচ.এম মনজুর আলম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৫ আগস্টের হত্যা মামলার আসামীদের প্রভাব ও যোগসাজশে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা তৈরি হয়েছে, যা অ্যাসোসিয়েশনের স্বাভাবিক কার্যক্রমের পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দর এবং দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যকে ঝুঁকিতে ফেলছে।
বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রথম ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী রফিকুল ইসলাম মোমিন এবং পরিচালক পদপ্রার্থী আমানুল্লাহ আল ছগীর ছুটু, মশিউল আলম স্বপন, মিল্লাত হোসেন লিটন, নবাব খান, সাফায়েত হোসেন ও মেজবাহ উদ্দিন লাভলু।
নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, গেল ১৫ বছর ধরে একটি স্বেচ্ছাচারী গোষ্ঠী ক্ষমতা ও প্রভাব খাটিয়ে অ্যাসোসিয়েশনকে অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছে। তাদের দাবি, সাবেক চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান রাসেল ও তার সহযোগীরা এই চক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং তারা ছাত্র হত্যা মামলার গুরুতর অভিযোগেও অভিযুক্ত।
প্রার্থীরা জানান, পলাতক এক কর্মকর্তাকে প্রধান করে গঠিত তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন কখনো অফিসে উপস্থিত হননি। এমনকি মনোনয়ন জমাদানের দিনও কমিশনের কোনো সদস্য সেখানে ছিলেন না। একজন কর্মচারী মাত্র সাতটি মনোনয়ন গ্রহণ করলেও পরে কমিশন প্রধানের উদ্ধৃতিতে মোট ১৭টি মনোনয়ন জমার তথ্য প্রচার করা হয়, যা প্রার্থীরা ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যমূলক’ বলে দাবি করেন।
এছাড়া অভিযোগে বলা হয়, মনোনয়ন জমার পর থেকেই অ্যাসোসিয়েশনের সচিবসহ কর্মকর্তারা অফিসে কাটছাঁট করছেন না। বিদায়ী কমিটির কয়েকজন সদস্য ভোটার তালিকায় বেআইনি পরিবর্তন করেছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে—নিজেদের নাম বাদ দিয়ে অন্যদের নাম যুক্ত করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ গঠনতন্ত্রবিরোধী।
প্রার্থীদের আশঙ্কা, এ ধরনের পরিস্থিতিতে অফিসে অনুপস্থিত “অদৃশ্য নির্বাচন কমিশন” মনোনয়ন যাচাইয়ের নামে ১২ সদস্যের ‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার ডামি নির্বাচন’ আয়োজন করতে পারে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সংগঠনটি D.T.O. অনুমোদিত হওয়ায় এবং চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারকারীদের গুরুত্বপূর্ণ একটি প্ল্যাটফর্ম হওয়ায় এই নির্বাচনে সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপ জরুরি। স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন না হলে বন্দর কার্যক্রমসহ জাতীয় অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেন প্রার্থীরা।
তারা অভিযোগ করে বলেন, স্বৈরাচারী চক্র ও বহিঃশক্তির মদদে কেউ কেউ বন্দর বন্ধের মতো চরম পদক্ষেপে যেতে পারে, যা অতীতেও ঘটেছে। তাই সব পক্ষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রার্থীরা স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।