ফিরোজ আলম পরশ
রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করেই দেদারছে চলছে আওয়ামীগ নেতাদের ইটভাটা। এদের প্রত্যেকেই বছরের পর বছর ফেঁপে ফুলে বেআইনীভাবে ভাটা মালিক বনে গেছেন। এদের মধ্যে সিংহভাগই জনপ্রতিনিধি ও তাদের আত্মীয়-স্বজন। ইতোমধ্যে এআসন থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নেয়া প্রার্থীদের মাধ্যমে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দ রিজওয়ানা হাসানের কাছে ভাটা বন্ধ না করার জন্য যোগাযোগ করতে ধর্ণা দেন ঢাকায়। যদিও কার্যত কোন ফল মেলেনি। মালিকদের দাবি, সরকারের বিধি বিধান মেনে চালানো হচ্ছে কালো ধোঁয়ার উৎপাদনখানা।
এদিকে রবিবার উপজেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করে মা ব্রিক্স এবং বিবিএম ব্রিক্স দুটি অনুমোদহীন ভাটা উচ্ছেদের পর পুনঃরায় চালু করেছে ওই ভাটা মালিক ও আ’লীগনেতারা।
এলাকাবাসী জানান, রামগতি উপজেলা ইটভাটা মালিকদের নেপথ্যে কাজ করছেন আ’লীগনেতা সানা উল্যাহ সানু, হাজী মো. খলিল, মিরাজ ও চররমিজের ইউপি চেয়ারম্যানসহ অনেকে। বিভিন্ন অফিস আদালতে মালিক সমিতির পক্ষে দিনে সাদা মাঠা কিছু লোক পাঠালেও রাতে মালিক সমিতির নেতৃত্ব দিচ্ছেন আওয়ামী লীগ ভাটা মালিকরাই। অবৈধ উৎপাদনখানার ব্যবসায় বিএনপি-আওয়ামী লীগ যেন ভাই ভাই।
নামপ্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রতিটি ব্রিক ফিলেন্ডর আশপাশের মানুষ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত। শিশু থেকে বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত। সরকারের কোটি কোটি টাকার পাকা ও সংস্কার করা কাঁচা রাস্তা ভাটার ট্রাক্টরে নষ্ট করে ফেলে। রাজস্ব আয়ের চেয়ে শতগুণ বেশি ক্ষতি হয়।
মালিকরা প্রথমে কিছু জমি কিনে ভাটা দেয়। পর্যায়ক্রমে তাদের আসল রুপ ভেসে উঠে। ভাটার আশপাশের জায়গা জমি মালিকদের সাথে নামমাত্র টাকা দিয়ে কিংবা প্রাণ নাশের হুমকির ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন দালাল ধরে মূল্যবান জমি নামমাত্র টাকা দিয়ে কিনে নেয়। এতে ভাটার পাশবর্তী মানুষ অসহায়। কারণ তাদের করার কিছুই থাকে না। এভাবে শত শত গরীব মানুষকে ভাটা মালিকরা নিঃস্ব করছে। এছাড়া ভাটায় অফিস ও তার আশপাশে বিভিন্ন ধরণের নেশার আড্ডাসহ অনৈতিক কাজ হয় অহরহ। তবে ভয়ে মুখ খুলছেন না স্থানীয়রা। কৃষি অনুমোদন না নিয়ে ভাটা তৈরী ফলে ক্ষুদ্র-মাঝারি ও প্রান্তিক পর্যায়ের অর্ধলাখ কৃষি পরিবার প্রতি বছর ধংসের মুখে পড়ে। কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে কৃষি ফসল ঘরে না নিতে পেরে ক্ষোভে ফুসে উঠেন তারা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন প্রধান শিক্ষক জানান, স্কুলের পাশেই ভাটা। মালিকরা টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন অফিস থেকে এনওসি কাগজে কলমে বানাইয়া নেয়। প্রকৃতপক্ষে প্রতিষ্ঠানের নাকের ডগায়ই ভাটা চলে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আশ্রয় প্রশ্রয় ও প্রশাসনের শেল্টারেই অবৈধ ভাটা চলে আসছে। উপজেলার প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ মানুষই কালো ধোয়ার রোগে ভুগছেন।
তিনি আরও বলেন, কৃষি ফসলেরতো কল্পনাই করা যাচ্ছে না। বিশেষ করে ধান, সয়াবিন সহ নানা মৌসুমী ফসল আমরা কিনে খেতে হচ্ছে। প্রশাসনের দায়সাড়া অভিযানে ৪/৫টি ভাটা ভাঙা হয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে সরকারের নিয়মানুযায়ী ভাটা দেয়া হউক। যাতে ভাটা মালিক ও সাধারণ মানুষের কোন সমস্যা না হয়।
রামগতি উপজেলা ভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সানা উল্যাহ বলেন, সরকারের নির্দেশে আমাদের ভাটাগুলো তৈরী। কিন্তু বর্তমান সময়ে ভাটা বন্ধ রেখেছি। কোন ধরণের উৎপাদন কার্যক্রম নেই বললেই চলে। এছাড়া আমাদের ভাটার উপর অভিযান চলমান। আমরা এখন অসহায় অবস্থায়।
রামগতির ইউএনও সৈয়দ মোঃ আমজাদ হোসেন বলেন, সরকারের উপরের নির্দেশে আমরা ভাটায় অভিযান চালিয়েছি। আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এ জাতীয় আরো খবর..