- প্রকাশিত : ২০২৫-১১-২৫
- ১১৬ বার পঠিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার-বিশন্দী সড়কে গভীর রাতে ঘটে গেল এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। সাধারণ যাত্রীবাহী সিএনজি ভেবে টহলরত পুলিশের গাড়িকে রামদা হাতে গতিরোধ করে একদল ডাকাত। কিন্তু ভেতর থেকে উর্দিপরা পুলিশ সদস্যদের নামতে দেখেই তারা চরমভাবে হতভম্ব হয়ে পড়ে এবং কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে ডাকাতি, ছিনতাই এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে পুলিশের নতুন কৌশল অবলম্বন করার ফলেই এই ঘটনা সামনে আসে। পুলিশ সদস্যরা সাধারণ যাত্রীর বেশে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে গভীর রাতে টহল দিচ্ছিলেন।
রবিবার (২৩শে নভেম্বর) রাত আনুমানিক ৩টার দিকে এই ঘটনাটি ঘটে আড়াইহাজার উপজেলার জালাকান্দি এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে, বিশেষ নিরাপত্তা টহলে থাকা সিএনজি অটোরিকশাটি যখন জালাকান্দি এলাকায় পৌঁছায়, তখনই রামদা হাতে উদ্যত একদল ডাকাত সিএনজিটির সামনে এসে দ্রুত গতিরোধ করে।
ডাকাতরা সম্ভবত রাতের আঁধারে সিএনজিটিকে সাধারণ যাত্রীবাহী গাড়ি ভেবে ছিনতাই বা ডাকাতির উদ্দেশ্যে থামিয়েছিল। কিন্তু তাদের পরিকল্পনায় জল ঢেলে দেন সিএনজির ভেতরে থাকা টহলরত পুলিশ সদস্যরা।
পুলিশের টহল টিমের সদস্যরা দ্রুত পরিস্থিতি বুঝতে পারেন এবং মুহূর্তের মধ্যে নিজেদের অবস্থান প্রকাশ করে ডাকাতদের দিকে এগিয়ে যান। আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার নাসির উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গভীর রাতে টহলরত পুলিশের সিএনজি অটোরিকশাকে সাধারণ যাত্রীবাহী গাড়ি ভেবে গতিরোধ করে ডাকাত দল। কিন্তু দলের প্রধান এএসআই রিপনের তাৎক্ষণিক নির্দেশে সদস্যরা পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পুলিশকে দেখেই ডাকাত দল কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, ডাকাতদল তাড়াহুড়ো করে পালানোর সময় ঘটনাস্থলে একটি ধারালো রামদা ফেলে যায়। পুলিশ সেই রামদাটি উদ্ধার করে। এই ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, তবে পুলিশের উপস্থিতি সত্ত্বেও গভীর রাতে সড়কে ডাকাত দলের এমন দুঃসাহসিক কার্যকলাপ স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
আড়াইহাজার থানার ওসি খন্দকার নাসির উদ্দিন আরও বলেন, ডাকাত সদস্যদের শনাক্ত করে দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনার জন্য আমাদের অভিযান জোরদার করা হয়েছে। সাধারণ যাত্রীর বেশে পুলিশের টহল কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গভীর রাতে যাত্রীর বেশে পুলিশের টহল একটি কার্যকর কৌশল। এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে অপরাধীরা পুলিশের সাধারণ টহলের পাশাপাশি ছদ্মবেশী টহলকেও ভয় পেতে শুরু করেছে। তবে ডাকাতদের পালানোর ঘটনাটি এই অঞ্চলের সড়ক নিরাপত্তার দুর্বলতাও তুলে ধরেছে। স্থানীয় প্রশাসনকে আরও তৎপর হতে হবে।
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রমাণ করে, অপরাধ দমনে নারায়ণগঞ্জ পুলিশের নতুন কৌশল কার্যকর ভূমিকা রাখছে। তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ডাকাত দলকে গ্রেফতার করাই এখন পুলিশের প্রধান লক্ষ্য।
নিউজটি শেয়ার করুন
এ জাতীয় আরো খবর..