×
সদ্য প্রাপ্ত:
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে ধানক্ষেত এর পাশ থেকে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার মোন্থা’ এখন প্রবল ঘূর্ণিঝড়, বেড়েছে বাতাসের গতিবেগ না ফেরার দেশে তিনবারের বিশ্বজয়ী হাফেজ ত্বকী অস্ত্র মামলায় সম্রাটের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে অধিগ্রহণকৃত জমির ক্ষতিপূরণ পরিশোধের দাবি সিলেটে দুই ট্রাক সাদাপাথর জব্দ, চালকদের দেড় লাখ টাকা জরিমানা হবিগঞ্জে জামায়াত প্রার্থীর গাড়িতে দুর্বৃত্তদের হামলা ঢাকার ফ্লাইট নামছে চট্টগ্রাম-কলকাতায় মক্কায় এক সপ্তাহে ১৩.৫ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ দুটি পবিত্র মসজিদ পরিদর্শন করেছেন শিক্ষকদের ‘মার্চ টু সচিবালয়’ শুরু, পুলিশের বাধা
  • প্রকাশিত : ২০২৫-১১-২৯
  • ২০১ বার পঠিত
মোঃঅলি উদ্দিন মিলন বিশেষ প্রতিনিধি 

সাংবাদিক সংগঠনগুলোতে রাজনৈতিক প্রভাব, বিভাজন এবং পেশাদারিত্বের অবক্ষয়।
​বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল—জেলা, উপজেলা, এমনকি থানা পর্যায় পর্যন্ত ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে অসংখ্য সাংবাদিক ক্লাব, রিপোর্টাস ইউনিটি এবং প্রেস ক্লাব। বাহ্যিকভাবে এসব সংগঠন সাংবাদিকদের স্বার্থ রক্ষার কথা বললেও, গভীর অনুসন্ধানে দেখা যায় এদের অধিকাংশই রাজনৈতিক দলের ছাত্রছায়ায় পরিচালিত। সাংবাদিকতার মতো মহান পেশা আজ রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তির কবলে পড়ে তার স্বকীয়তা হারাচ্ছে। সচেতন মহল মনে করছেন, এই ধারার পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি।

​রাজনৈতিক ছত্রছায়া ও সংগঠনের আধিক্য
​একই উপজেলা বা থানায় একাধিক প্রেস ক্লাব বা সাংবাদিক সংগঠন থাকার নজির এখন অহরহ। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এসব বিভাজনের মূল কারণ আদর্শিক বা পেশাগত মতভেদ নয়, বরং রাজনৈতিক দলীয় আনুগত্য। যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে, সেই দলের অনুসারী সাংবাদিকরা মূলধারার ক্লাবের নেতৃত্ব দখল করেন অথবা পাল্টা আরেকটি ক্লাব গঠন করেন।

​এর ফলে সাংবাদিকদের মধ্যে তৈরি হয় চরম বিভাজন। এক গ্রুপ অন্য গ্রুপকে পেশাগত প্রতিদ্বন্দ্বী না ভেবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করে। এই বিভাজন এতটাই প্রকট যে, সংবাদপত্রের পাতায় বা টেলিভিশনের পর্দায় সংবাদের চেয়ে দলীয় তোষণই বেশি গুরুত্ব পায়।

​‘সাদাকে সাদা’ ও ‘কালোকে কালো’ বলার অন্তরায়
​রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় থাকার কারণে সাংবাদিকরা আজ সত্য প্রকাশে কুণ্ঠিত। যখন একজন সাংবাদিক কোনো নির্দিষ্ট দলের তকমা গায়ে লাগিয়ে ফেলেন, তখন তার পক্ষে নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন অসম্ভব হয়ে পড়ে।

​সত্যের অপলাপ: দলীয় আনুগত্যের কারণে নিজ দলের দুর্নীতি, অনিয়ম বা অপরাধের খবর তারা ধামাচাপা দেন। অন্যদিকে, বিরোধী মতের সামান্য ত্রুটিও বড় করে প্রচার করেন।
​বিবেকের দাসত্ব: "সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো" বলার সাহস হারিয়ে ফেলেন তারা। ফলে সাধারণ মানুষ সঠিক তথ্য থেকে বঞ্চিত হয় এবং সাংবাদিকতার ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলে।
​ক্ষমতার পালাবদল: হামলা ও মামলার বিষাক্ত চক্র
​রাজনৈতিক সাংবাদিকতার সবচেয়ে ভয়াবহ দিকটি উন্মোচিত হয় ক্ষমতার পালাবদলের সময়।

​১. ক্ষমতায় থাকাকালীন: যখন তাদের সমর্থিত দল ক্ষমতায় থাকে, তখন এই সাংবাদিকরা নানা সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন এবং বিরোধী মতের সাংবাদিকদের দমানোর চেষ্টা করেন।

২. ক্ষমতা হারানোর পর: সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে চিত্র উল্টে যায়। যারা এতদিন ক্ষমতার দাপট দেখিয়েছেন, তারা তখন রাজনৈতিক রোষানলে পড়েন। তাদের বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে চাঁদাবাজি,রাষ্ট্রদ্রোহি, মামলা, আইসিটি অ্যাক্টে মামলা এবং শারীরিক হামলার ঘটনা ঘটে।

​এই চক্রাকার প্রতিহিংসা সাংবাদিকতা পেশাকে একটি ঝুঁকিপূর্ণ এবং অস্থিতিশীল অবস্থায় নিয়ে গেছে। প্রকৃত সাংবাদিকরা এই নোংরা রাজনীতির শিকার হয়ে পেশা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন।

​সচেতন মহলের অভিমত ও পরিবর্তনের দাবি
​শিক্ষাবিদ, সমাজচিন্তক এবং জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের মতে, এই অবস্থার আশু পরিবর্তন প্রয়োজন। তারা মনে করেন:

​দলীয়করণের অবসান: সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে হতে হবে সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক এবং পেশাদার। এখানে পদের মাপকাঠি হতে হবে যোগ্যতা ও সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক পরিচয় নয়।
​ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম: থানা ও উপজেলা পর্যায়ে একাধিক ক্লাব বন্ধ করে একটি শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে হবে।
​নিরাপত্তা ও মর্যাদা: সাংবাদিকরা যদি রাজনৈতিক লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে কাজ না করে সত্যিকার অর্থে সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করেন, তবেই হামলা-মামলার সংস্কৃতি থেকে মুক্তি মিলবে।
​উপসংহার
​সাংবাদিকতা রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। কিন্তু এই স্তম্ভ যদি রাজনৈতিক উইপোকার আক্রমণে জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে, তবে রাষ্ট্র ও সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দলীয় সংঘাত এখন সাংবাদিকদের মাঝেও ছড়িয়ে পড়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এখনই সময় সাংবাদিকতার গায়ে লেগে থাকা রাজনৈতিক রং মুছে ফেলে সত্য সন্ধানে ব্রত হওয়ার। নতুবা, এই পেশার মর্যাদা পুনরুদ্ধার করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

​বি:দ্র: প্রতিবেদনটি বর্তমান প্রেক্ষাপটের ওপর ভিত্তি করে একটি নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat